মে মাস থেকেই লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমারেখা বরাবার এলাকায় উত্তেজনা জিয়ে রেখেছে চিন। দিনে দিনে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে আরও বেশি করে সেনা মোতায়েন করছে। ভারতীয় সেনা বাহিনীর এক কর্তার কথায় পূর্ব লাদাখ আর দখলীকৃত আকসাই চিনে  বেজিং পিপিলস লিবারেশন আর্মির প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য মজুত করেছে। পাশাপাশি অস্ত্র আর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেও চাপ বাড়াচ্ছে ভারতের ওপর। কিন্তু চিনা সেনাদের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারতও। জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা কর্তা। 

সেনা কর্তার কথায় চিন আর্টিলারি, রকেট লঞ্চার নিয়ে হঠাৎ করেই হামলা চালাতে পারে। কিন্তু এগুলি প্রতিহত করার জন্য ভারতীয় সেনা বাহিনীর হাতে মজুত রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। সেনা কর্তার কথায় অবিভক্ত সোভিয়ের যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী রণভূমির খুব কাছের একটি বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করা। সেক্ষেত্রে চিন হোতান এয়ারবেস ব্যবহার করতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। কারণ এই এয়ারবেসটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমারেখা থেকে মাত্র ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তুলনামূলকভাবে কিছুটা হলেও কাছে রয়েছে ভারতীয় এয়ারবেস। চিন, হোতানের পাশাপাশি তিব্বতের লাসা, কাশগড় এয়ারবেসও ব্যবহার করতে পারে।  সেক্ষেত্রে ভারতীয় যোদ্ধাদের সুবিধে করেদেবে স্ট্যান্ড অফ এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল। এই মিসাইলগুলি রকেট আর্টিলারিকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত। 

সেনা কর্তার কথায় পার্বত্য এলাকায় যুদ্ধ করতে রীতিমত দক্ষ ভারতীয় সেনারা। পাশাপাশি তিনি বলেন কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে ভারতীয়দের। ইতিমধ্যেই প্যাংগংসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কৌশলগত উচ্চ স্থানগুলি দখল করেছে ভারতীয়রা। যা ভারতীয় সেনাদের কাছে একটি অস্ত্র। কারণ শীতকালে প্রবল হাওয়ায় পাহাড়ে চড়া অনেকটাই কষ্টসাধ্য, তুলনামূলকভাবে পাহাড় চূড়ায় বলে নজরদারি চালান সহজ। সেনা কর্তার কথায় বর্তমানে ভারতীয়রা এমন অবস্থানে রয়েছে, যেখান থেকে তাদের সারনো খুব কঠিন কাজ। পাশাপাশি রেজিংলা রেচিং  লা সহ বিস্তীর্ণ এলাকজুড়ে নজরদারী চালাতে পারছে ভারত। সেনা কর্তার কথায় বর্তমানে পুরো এলাকাতেই প্রভাব বিস্তার করে অবস্থান করছে ভারতীয় সেনা।

সেনা কর্তার কথায় এই মুহূর্ত ভারতীয় সেনা বাহিনী টানা দশ দিনধরে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত। কারণ নরেন্দ্র মোদী সরকার উরি আর বালাকোট হামলার পরই প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ কেনার অনুমতি দিয়েছিল। দশ দিন বিশ্বের অন্যকোনও দেশের সাহায্য ছাড়াই যুদ্ধ করতে পারবে ভারত। ৪০ দিনের জন্য দেশীয় গোলাবারুদে কাজ চালানো যাবে।  অন্যদিকে সেনা কর্তার কথায় আগামী মাস থেকেই পাঁচটি রাফাল যুদ্ধ বিমানই সক্রিয় হবে। যাঁরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাঁদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পরেই রাফাল স্কোয়াড্রোনে যোগ দেবেন তাঁরা। তাই যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে পূর্ণ শক্তিনিয়ে হামলা চালাতে পারবে রাফাল।