প্যাংগং লেক এলাকা নিয়ে কথা বলেই রাজি নয় চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির কর্তারা। সেনা সূত্রের খবর সেই কারণেই গোটা এলাকায় জুড়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। সেনা বাহিনী সূত্রের খবর প্যাংগং নিয়ে আলোচনা না করায় সেখানের পরিস্থিতি আপাতত উন্নতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। একটি সূত্র বলছে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে প্যাংগং-এক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় অগ্রগতি হওয়া সম্ভব নয়। ভারতীয় সেনা লেহ কপার্স কমান্ডার লেফট্যানেন্ট জেনারেল হরিন্দর সিং-এর সঙ্গে তাঁর সমগত্রীয় চিনা সেনা অধিকর্তা লিন লিউয়ের মধ্যেই আলোচনা হচ্ছে মলডোতে। 

ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর বর্তমানে পূর্ব লাদাখ সীমান্তের সবথেকে বড় স্ট্যান্ড অফ এলাকায় পরিণত হয়েছে প্যাংগং লেক। কারণ সদ্যোপ্রকাশিত একটি স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যাচ্ছে প্যাংগং লেকের  ৫ ও ৬ নম্বর ফিঙ্গার পয়েট এলাকায় রীতিমত নির্মাণ কাজ শুরু করেছে চিন। যার নিয়ে  উদ্বেগ বাড়ছে ভারতীয় সেনাদের মধ্যে। গোগরা পোস্ট সহ বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্যাংগং-এর ফিঙ্গার এলাকায় চিনের তৎপরতার কারণে হটস্প্রিং থেকে গালওয়ান উপত্যকা পেট্রোল পয়েন্ট ১৪-১৫ পর্যন্ত বিতর্কিত প্রোটোকল কার্যকর করেছে। 

অন্যদিকং প্যাংগং ছাড়াও এদিনে ভারত চিন সামরিক পর্যায়ে দোপসাং উপত্যকা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। কারণ এই এলাকায় চিন আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ সেনা মোতায়েন করেছে। তাই বাধ্য হয়েও দোপসাং উপত্যকাকে আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে বেশ কয়েক দিন ধরেই প্যাংগং লেক এলাকায় চিনা সেনা সমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়েছে ভারতীয় সেনা। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে যায় তারজন্য রীতিমত তৈরি হয়েছে ভারতীয় জওয়ানরা। সেনা সূত্রে খবর ইতিমধ্যে প্যাংগং লেক এলারায় ফিঙ্গার পয়েন্টের নিযুক্ত ভারতীয় জওয়ানদের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও সরঞ্জাম মজুত করা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সেনার এক কর্তা জানিয়েছেন চিনা সেনার সঙ্গে লড়াই করার জন্য ভারতীয় সেনাদের শীত নিয়ন্ত্রক কিটও প্রদান করা হচ্ছে। কারণ প্যাংগং থেকে গালওয়ান পর্যন্ত পূর্ব লাদাখের বিস্তীর্ণ এলাকায় অগাস্ট মাস থেকেই শীত পড়তে শুরু করে। বেশ কয়েকটি এলাকায় সেম্পেম্বর মাস থেকেই বরফ পড়তে শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা কর্তার কথায় প্যাংগং সহ পূর্ব লাদাখের বিস্তীর্ণ এলাকায় টহলরত সেনার জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা করা হয়। আদালা পোষাক, জুতো তাঁদের সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশি পরিমাণে মজুত করা হচ্ছে রেশন, কেরোসিন, জ্বালানী তেল ও লুব্রিক্যান্ট।