কংগ্রেসের বিপর্যস্ত দশা ক্রমশই প্রকট হচ্ছে। এরই মধ্যে  রাহুল গান্ধীকেই সভাপতির পদে ফিরিয়ে আসান দাবি তুললেন কংগ্রেস সাংসদরা। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন কংগ্রেসের নবনির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদরা। সেখানেই রাহুল গান্ধীকে ফিরে আনার দাবি তোলা হয়। 

মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সাংসদ দ্বিগবিজয় সিং জানিয়েছেন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রাহুল গান্ধীর নাম তাঁরা প্রস্তাব করেছেন বলেও জানিয়েছেন। একই সুরে কথা বলেছেন বাকি সাংসদরাও। 

কেসি ভেনুগোপাল জানিয়েছেন, মহামারীর এই আহবে রাহুল গান্ধী সামনে থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর দ্বিগবিজয় সিং বলেন বর্তমান পরিস্থিতি একমাত্র রাহুল গান্ধীই কেন্দ্রীয় সরকারকে একাধিক ইস্যুতে সরাসরি নিশানা করে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় তিনি যদি দলের মুখ হয়ে ওঠেন তাহলে দলের পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন। যদিও সনিয়া গান্ধী এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে সাংসদের দাবি মন দিয়ে শুনেছেন বলেই জানিয়েছে একটি সূত্র। 

মধ্যপ্রদেশে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। মুখ পুড়েছে রাজস্থানেও। ঘনিষ্ট দুই সহযোগী শচীন পাইল আর জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ায় ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত নীরব রাহুল গান্ধী। যদিও দলের বর্ষীয়ান নেতাদের রীতিমত নিশানায় ছিলেন এই দুই নেতা। জ্যোতিরাদিত্য দল ছাড়ে বিজেপিতে যোগ দেওযার প্রধান কারণই দ্বিগবিজয় সিং আর কমলনাথের সঙ্গে বিবাদ। আর শচীন পাইলটের বিবাদ  অশোক গেহলটের সঙ্গে। সেখানে দলের বর্ষিয়ান নেতারাই রাহুল গান্ধীকে সভাপতির পদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানালেন। যার কিছুটা হলেও বিজেপির অভিযোগকেই মান্যতা দিয়েছে। কারণ বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে থাকে গান্ধী পরিবার ছাড়া অন্যকাউই কংগ্রেসের প্রধান হতে পারে না। শচীন পাইলট আর জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ইস্যুতেই এই অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। তাঁর কথায় রাহুল গান্ধীর জন্যই দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তরুণ নেতারা। 


  আগামী ১০ অগাস্ট সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস প্রধান হিসেবে একবছর পূর্ণ করবেন। তারপরেই পরি দলে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে? এখনও পর্যন্ত সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ধরাসায়ী হওয়ার পর পরাজয়ের দায়ভার মাথায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তারপর দলে নতুন কোনও মুখ দেখতে পাওয়া যায়নি। তারপরেও কেটে গেল একবছর। দলীয় কোন্দলে রীতিমত জরাজীর্ণ কংগ্রস। সেই আবস্থায় রাহুল ফিরলেও কংগ্রেস কতটা শক্তি পাবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে কংগ্রেসের অনেকেই মেনে নিয়েছেন রাহুল গান্ধী প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ায় রীতিমত ক্ষতি হয়েছে দলের। একের পর এক তরুণ নেতা বিদ্রোহী হয়েছেন। কেউ দল ছেড়েছেন। কেউ আবার বসে গেছেন। 

পাল্টা রাহুল গান্ধী যদি কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে আবাও দায়িত্ব তুলে নেন তাহলে কিছুটা হলেও সুবিধে হবে বিজেপির। কারণ এমনিতেই বিজেপি গান্ধী পরিবারকে সর্বদাই টার্গেট করে। আগামী দিনে সেই টার্গেট আরও শক্তিশালী করা যাবে বলেও বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল।