আজই কমপক্ষে তিন কোটি লোককে করোনার টিকা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ভারত সরকার। বুধবার এমনটাই দাবি করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে তার আগে সেই টিকা আবিষ্কৃত হতে হবে। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন টিকা এসে গেলেই অবিলম্বে সকল ভারতীয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় তিন কোটি ভারতীয়কে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের একেবারে প্রথম পর্যায়ে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ চিকিৎসক এবং প্রায় ২ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী আছেন।

জানা গিয়েছে ভারতে ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ কমিটি ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তার একটা খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করছে। ২ কোটি ফ্রন্টলাইনারের মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির পুলিশ বাহিনী, হোম গার্ড, সশস্ত্র বাহিনী, পৌরকর্মী, আশা কর্মী, সাফাইকর্মী, শিক্ষক এবং চালকরা রয়েছেন। স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ বলেছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে কত পরিমাণ ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে এবং সেই পরিমাণের তুলনায় কত পরিমাণ লোককে সেই ভ্যাকসিন দেওয়া তার প্রাথমিক অগ্রাধিকারের খসড়া পরিকল্পনা তৈরির কাজ করছে ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ কমিটি। বর্তমান যে টিকাগুলির পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে, তা সফল হলে এই খসড়া পরিকল্পনা অনুযাায়ীই কোভিড টিকাকরণের কাজ শুরু করা হবে।

কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং রাজ্যগুলির থেকে পাওয়া তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে করোনা টিকা দেওয়ার অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করছে এই কোভিড -১৯ এর ভ্যাকসিন সংক্রান্ত জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি। নীতি আয়োগের সদস্য ডাক্তার ভি কে পাল ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ এই বিশেষজ্ঞ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। মার্কিন সিডিসি, এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাবিত প্রাথমিক পর্যায়ে টিকাদানের পরিকল্পনা তাঁরা অধ্যয়ন করেছেন। সেই ধারা মেনেই ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে টিকাকরণের জন্য ভারতের টিকাকরণের কাঠামোটি তৈরি করা হচ্ছে।