বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের দৈনিক নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবার ৫০,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির হারটা দারুণ উদ্বেগজনক হলেও, ভালো খবর হল ভারতের কোভিড -১৯ রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হারটাও কিন্তু গত কয়েক মাসে দারুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতো এটা 'ইতিবাচক প্রবণতা'।

এদিন দেশের কোভিড -১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রকের সচিব রাজেশ ভূষণ বলেন, এপ্রিল মাসে কোভিড রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার হার ছিল মাত্র ৭.৮৫ শতাংশ আর বর্তমানে এটি বাড়তে বাড়তে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৪ শতাংশে। তিনি আরও জানিয়েছেন দেশে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ কোভিড-১৯ রোগ মুক্ত হয়েছেন। আর লক্ষণীয় মাত্রায় সুস্থতার হার বেড়েছে শুধুমাত্র চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য ফ্রন্টলাইন কর্মীদের নিঃস্বার্থ কাজ এবং আত্মত্যাগের কারণে।

রাজেশ ভূষণ আরও জানান, দেশের ১৬ টি রাজ্যের সুস্থ হয়ে ওঠার হার জাতীয় কোভিড সুস্থতার গড়ের চেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সুস্থতার হার দিল্লিতে। এই রাজ্যে ৮৮ শতাংশ কোভিড রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। এরপর আছে লাদাখ (৮০ শতাংশ), হরিয়ানা (৭৮ শতাংশ), অসম (৭৬ শতাংশ), তেলেঙ্গানা (৭৪ শতাংশ), তামিলনাড়ু ও গুজরাত (দুই রাজ্যেই ৭৩ শতাংশ), রাজস্থান (৭০ শতাংশ), মধ্যপ্রদেশ (৬৯ শতাংশ) এবং গোয়া (৬৮ শতাংশ)।

তবে ভারতের জাতীয় সুস্থতার গড়ও বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। সেই সঙ্গে তিনি জানান, এপ্রিল ভারতে প্রতিদিন মাত্র ৬,০০০-এর মতো করোনা পরীক্ষা করা যেত। এখন প্রতিদিন পাঁচ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষা হচ্ছে। তবে এখানেই থেমে থাকবে না মন্ত্রক। হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন কেন্দ্রের পরিকল্পনা আগামী ১-২ মাসের মধ্যে দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যাটা ১০ লক্ষে নিয়ে যাওয়া।

মন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৫,৮৩,৭৯২, এর মধ্যে চিকিৎসাধীন ৫,২৮,২৪২ জন। আর করোনা জনিত কারণে এদিন পর্যন্ত মৃত্য়ু হয়েছে প্রায় ৩৫,০০০ ভারতবাসীর।