শনিবার ভারতের কোভিড-১৯ টিকাকরণ অভিযানের প্রথমদিনই ভ্যাকসিন পেলেন ১,৯১,১৮১ জন। প্রথমে জানানো হয়েছিল, টিকা নিয়েছেন ১,৬৫,৭৫৫ জন। পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তা সংশোধন করা হয়। তবে এদিন সরকারের লক্ষ্য ছিল ৩ লক্ষেরও বেশি লোককে টিকা দেওয়া। এদিন দেশের ৩৩৫১ টি কেন্দ্রে টিকাদান করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, অসম, বিহার, হরিয়ানা, কর্ণাটক, ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশ - এই ১১ টি রাজ্যে সিরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড এবং ভারত বায়োটেকের কোভাক্সিন দুই টিকাই ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার পরই গোটা দেশজুড়ে শুরু হয়ে যায় টিকাদান। ভারতে প্রথম টিকা দেওয়া হয় সাফাই কর্মী মনীষ কুমার। দিল্লির এইএমস হাসপাতালে তাঁকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। মনীষ কুমার জানিয়েছেন তাঁর অনেক সহকর্মীই এই বিষয়ে ভয় পেয়েছিলেন। সেই অবস্থায় তাঁদের সাহস জোগাতে চতিনি নিজেই তাঁর সিনিয়রদের কাছে গিয়ে প্রথমে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। এমনকী, তাঁর স্ত্রীও ভ্যাকসিন না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে, টিকা নেওয়ার পর তিনি নিরাপদে আছেন বলেই জানিয়েছেন।

সকলেই যে টিকা নিয়ে সুস্থ আছেন, তা নয়। কয়েকজনের দেহে প্রতিকূল প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এক নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর এসেছে। তবে কারোরই অবস্থা হাসপাতালে ভর্তি করার মতো গুরুতর নয়। এখনও পর্যন্ত টিকাদানের পর কোনও ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি বলেই জানিয়েছে মন্ত্রক। এরইমধ্যে ভারতে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনগুলির সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য চেয়ে বম্বে হাইকোর্টে তথ্য অধিকার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। তবে সএদিন আবারও টিকাগুলির সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নিয়ে যাবতীয় গুজব উড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন।