সারা বছর দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবন ও ইছামতি নদীর প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ জল সীমান্তে পাহারা দেয় ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর তিনটি ভাসমান সীমান্ত চৌকি বা জাহাজ। কিন্তু, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় 'আমফান'-এর দাপটে ক্ষতি হতে পারে সেই ভেসেলগুলির। এই আশঙ্কায় ওই তিনটি ভাসমান সীমান্ত চৌকি এবং আরও ৪৫টি টহলদারি নৌকাকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিল তারা।  

এই অংশে বিএসএফ-এর প্রহরায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সুন্দরবনের দুর্গম ১১০ কিলোমিটার সীমান্ত, ইস্টুরিয় পয়েন্ট, ইছামতি নদী এবং দুই দেশের স্থল এবং জল সীমান্ত যেখানে মিলেছে সেই পানিতর। তবে আপাতত ঘূর্ণিঝড় 'আমফান'-এর হাত থেকে সম্পদ রক্ষাই বিএসএফ-এর মূল লক্ষ্য। তাই তিনটি ভাসমান সীমান্ত চৌকি ও ৪৫ টি অন্যান্য টহলদারি নৌকা ও স্পিডবোটকে নিরাপদ এলাকায় নোঙ্গর করা হয়েছে।

বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের ডিআইজি এস এস গুলেরিয়া জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝড়ের দাপট না কমা অবধি এই ভাসমান সীমান্ত চৌকিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা স্থলসীমান্তে চলে যাবেন। সেইসঙ্গে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় চলার সময় জওয়ানদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হলেও তাদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। জলসীমান্ত থেকে বাহিনীর সদস্যদের সরানো হলেও ঝড় চলাকালীন স্থলভাগে গাড়িতে এবং পায়ে হেঁটে টহলদারি চলবেই।

ইলেক্ট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, মেকানিক, রাজমিস্ত্রি এবং ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ দলকেও জল সীমান্তের ঘাঁটিগুলিতে পাঠানো হয়েছে। ঝড়ের পরই পরিকাঠামোগত ক্ষতির তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করবেন। জল সীমান্তের ঘাঁটিগুলিতে স্যাটেলাইট ফোনও সরবরাহ করা হয়েছে যাতে যোগাযোগ কোনওভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়।

সেইসঙ্গে হাসনাবাদে এই ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত অভিযানের জন্য কমান্ড্যান্ট র‌্যাঙ্কের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে একদল চিকিৎসক, প্যারামেডিকস-ও আছেন। এছাড়া মজুত করা হয়েছে জীবনদায়ী ওষুধ। আছে দুটি অ্যাম্বুলেন্স-ও। গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে রাস্তা আটকে যেতে পারে বলে দুটি স্পিড বোটকে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স হিসাবে তৈরি রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনে সহায়তার জন্য কিছু তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।