গত বছর ২১ মে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় চলেছিল ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডব। করোনা মহামারির প্রথন তরঙ্গের মধ্যে সেই বিপর্যয়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছিল রাজ্য। তারপর বছর ঘুরে গিয়েছে। কিন্তু, ঠিক যেন গত বছরের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। করোনা মহামারির দ্বিতীয় তরঙ্গের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। আর তারমধ্যেই ফের সেই মে মাসের শেষেই বঙ্গোপসাগরের বুকে ঘনাচ্ছে আরও এক ঘূর্ণিঝড়, যশ। ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। আর এই ঝড় আমফানের মতো ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে সতর্ক করল ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD)।

আইএমডি-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় যশের আমফানের মতো ভয়াবহ রূপ ধারণ করার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ২২ মে উত্তর আন্দামান সাগর এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘন্টায় সেই নিম্নচাপই ক্রমে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করবে। ঘূর্ণিঝড়ের নজরদারিতে নিযুক্ত আইএমডি কর্তা সুনিতা দেবী হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকাকে জানিয়েছেন, আম্ফানের মতো তীব্রতার বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি আশার আলোও দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁদের তৈরি ঘুর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের মডেলগুলি অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ ব্যবস্থাটি খুব দ্রুত সমুদ্রের উপর দিয়ে এগিয়ে যাবে। সমুদ্রের ওপর নিম্নচাপ ব্যবস্থাটি যত কম সময় থাকবে, ততই কম হবে এর তীব্রতা।

একবছর আগের স্মৃতি, আমফানের ধ্বংসলীলা

তবে, ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা - দুই রাজ্য়েই। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই বিষয়ে তিনি একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। অফিসারদের তিনি পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ, পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং ত্রিপলের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকেও মৎসজীবীদের ২৪ মে তারিখ থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার ওড়িশার বিশেষ ত্রাণ কমিশনার প্রদীপ কে জেনা-ও, উপকূলীয় দশটি জেলার এসপি, দমকল ও জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি বিষয়ে একটি বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসনগুলিকে আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করা, পরিষেবা ও পরিকাঠামোর খোঁজ খবর করার এবং প্রয়োজনীয় কর্মী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন।