শনিবার গাজিয়াবাদ পুলিস এক নাবালিকা ও তার ১৯ বছরের পুরুষ-বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে খুনের অভিযোগে।  ভ্য়ালেন্টাইনস ডে-র দিনে মায়ের হাতে চড় খাওয়ার বদলা নিতে নাকি নিজের বয়ফ্রেন্ডকে সঙ্গে নিয়ে মাকে খুন করে ওই নাবালিকা!

কী ঘটেছিল?

নাবালিকার মা হেড কনস্টেবল হিসেবে কাজ করতেন। ভ্য়ালেন্টাইনস ডে-র দিনে যখন বাড়িতে কেউ ছিল না, তখন ওই নাবালিকা তার প্রেমিককে বাড়িতে  ডাকে। জীতেন্দ্র নামে ১৯ বছরের ওই যুবক বাড়িতে আসে। পরে সে কথা জানতে পারেন নাবালিকার মা। মেজাজ ধরে রাখতে না-পেরে মহিলা তখন সোজা চড় কষিয়ে দেন মেয়ের গালে। তারপর সটান চলে যান জীতেন্দ্রর বাড়ি। সেখানে গিয়ে জীতেন্দ্রর বাবা-মাকে সব জানান। জীতেন্দ্র তখন বাড়িতে ছিল না। তিনি বলে আসেন, বাড়ি ফিরলে যেন জীতেন্দ্রকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁর বাড়িতে।

পুলিশ জানায়, এরপর জীতেন্দ্র দুপুর একটার সময়ে মেয়েটির বাড়িতে যায়। ইতিমধ্য়েই তাকে ফোনে সব কথা বলে রেখেছিল নাবালিকা।  মায়ের চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দিয়ে বদলা নেওয়ার কথাও ভেবেছিল নাবালিকা। জীতেন্দ্র তাঁর বাড়িতে পৌঁছতেই মহিলা তাকেও সোজা চড় কষিয়ে দেন। তখন দুজনে মিলে রান্নাঘর থেকে লঙ্কার গুঁড়ো নিয়ে এসে মহিলার চোখে ছিটিয়ে দেয়। মহিলা যখন নিজেকে সামলাতে ব্য়স্ত, তথন রান্নাঘর থেকে মশলা গুঁডো করার একটা পাথর নিয়ে এসে মাথায় মারে দুজনে। মহিলা মাটিতে পড়ে গেলে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে টান দেয় নাবালিকা ও তার প্রেমিক। মহিলা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে নাবালিকা তখন প্রতিবেশীদের কাছে গিয়ে বলতে থাকে, তার মা বাড়িতে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খুনের সময়ে মহিলার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। ফিরে এসে তিনি নিজের মেয়ে ও ওই যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন লিঙ্ক রোড থানায়। জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা দশম শ্রেণির ছাত্রী ও তার প্রেমিক ষষ্ঠশ্রেণি অবধি পড়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। লঙ্কার গুঁড়ো, পাথর ও দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।