দেশ জুড়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মাঝে নয়া ঘোষণা দিল্লি সরকারের। সোমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়ে দিলেন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে পাশে থাকার অনুরোধ করেছেন কেজরিওয়াল। কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও ভ্যাকসিন পাঠানোর আবেদন করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। 

সোমবার কেজরিওয়াল বলেন, দিল্লিতে অক্সিজেন বিশিষ্ট শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দিল্লি। দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিন ২৮ হাজার মানুষ দিল্লিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। সেই বিপুল সংখ্যার রোগিকে যাতে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  

দিল্লিতে ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেন রাজ্যে এখন তিন থেকে চার দিনের মতো ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে। যা যথেষ্ট নয়। কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন, যেন আরও ভ্যাকসিন পাঠানো হয়। এক মাসের ভ্যাকসিন মজুত থাকলে, তবেই করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সাথে মোকাবিলা সম্ভব। 

এদিন কেজরিওয়াল স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের সঙ্গে দিল্লির কোভিড সেন্টার ঘুরে দেখেন। সোমবার দিল্লিতে নতুন করে ১২,৬৫১ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩১৯ জনের। দিল্লির স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে সেখানে করোনা আক্রান্ত হওয়ার হার ১৯.১০ শতাংশ।

এদিকে, করোনার প্রথম তরঙ্গের সময়, বিভিন্ন দেশকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বর্তমানে দ্বিতীয় তরঙ্গের ঘাতে ভারত নিজেই বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় এক এক করে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। পিছিয়ে রইল না দক্ষিণ কোরিয়াও। প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সরবরাহের মাধ্যমে, কোভিড-১৯ মহামারির সংকটে ধ্বস্ত ভারতের পাশে এসে দাঁড়ালো তারা।

দুইবারে মোট ২৩০টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ২০০টি রেগুলেটর-সহ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ১০০টি নেগেটিভ প্রেসার আইসোলেশন স্ট্রেচার-সহ বিভিন্ন চিকিত্সা সামগ্রী পাঠাচ্ছে তারা। বিশেষ বিমানে প্রথম চালানটি, ৯ মে বিকাল ৪.৩০-এ নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ১২ মে দ্বিতীয় বিমানটি আসবে। তবে, এই দুইবারের চালানই শেষ নয়।

দক্ষিণ কোরিয় দূতাবাসের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রথম দুই চালানে যে মাল পাঠানো হচ্ছে, তা তারা ভারতকে মোট যে পরিমাণ সাহায্য়ের পরিকল্পনা করেছে তার মাত্র ২০ শতাংশ। আগামী দিনে সরবরাহ প্রাপ্তি এবং বিমানের সময়সূচি অনুযায়ী আরও চিকিত্সা সরবরাহ পাঠানো হবে।