ক্রমে অবস্থা খারাপ হচ্ছে দিল্লির। সোমবাই উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে হিংসার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবারও সেই মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। জিটিবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ জানানো হয়েছে সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্য়াটা ১৩০-এর বেশি। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

গতকালই পুলিশের এক হেড কনস্টেবল রতন লাল-সহ মোট ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। এদিন জিটিবি হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার হাসপাতালে আনার পর চারজনকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছেন এবং আরও ৩৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে, উত্তর পূর্ব দিল্লিতে এখনও আইনের শাসন নেই বললেই চলে। মৌজপুর এলাকায় দাঙ্গাবাজরা দেদার সম্পত্তি ধ্বংস করে চলেছে। একের পর এক বাড়ি দোকানে চলছে অগ্নিসংযোগ। গুলি চলার আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে। এমনকী সাংবাদিকদের উপরও হামলা চলছে। হিংসা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং ফটো মুছতে বাধ্য করা হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের।

এরপরও দিল্লিতে সেনা নামাতে রাজি নয় কেন্দ্র। এদিন সকালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও লেফট্যানেন্ট গভর্নর অনিল বৈজাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথেষ্ট সদস্য দিল্লিতে মোতায়েন রয়েছে। সেনা নামানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। তার আগে তারা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধীক্ষেত্রে দিল্লির জন্য শান্তি প্রার্থনা করেন। এদিন সকালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী দিল্লির ধর্মস্থলগুলিতে সব ধর্মের নেতাদের সান্তি সবা আয়োজন করার আহ্বান জানান।

এদিন বিকেলে দিল্লির খেজুরি খাস এলাকায় ১৪৪ ধারা লাগু করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পুলিশ ও ব়্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ-ও করে।