প্রায় দু'মাস পর দেশের আকাশে ফের উড়ল অন্তর্দেশীয় বিমান। গত ২৪ মার্চ রাত ১২টা থেকে দেশে শুরু হয়েছে লকডাউন। তখন থেকেই বন্ধ ছিল অন্তর্দেশীয় বিমান চলাচল। তবে গত সপ্তাহেই অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন ২৫ মে থেকে দেশে ফের অন্তর্দেশীয় বিমান চলবে। সেই সমতই এদিন ভোর থেকে দিল্লি, মুম্বই, পুণে, রায়পুর, ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছেন যাত্রীরা। 

 

 

প্রায় দু'মাস পর পর দেশে চালু হওয়া  অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবায় প্রথম বিমানটি ওড়ে দিল্লি থেকে পুনের উদ্দেশ্যে। এরপরেই মুম্বই থেকে পুনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আরেকটি  অন্তর্দেশীয়। সকাল থেকেই সেকারণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে লক্ষ্য করা যায় তৎপরতা। যাত্রী সংখ্যায় সেভাবে প্রবল ভিড় দেখা না গেলেও সতর্কতা মেনেই হাজির হয়েছিলেন সকলে। লাইন দিতে হয়েছে সামাজিক দূরত্ব মেনেই। যাত্রীদের  প্রত্যেকের মুখে ছিল মাস্ক ওফেস শিল্ড। বিমানবন্দরে চলছে থার্মাল চেকিং।  হাতে গ্লাভসও ছিল অনেকের। যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন আটকে পড়া পর্যটক, শ্রমিক, ছাত্র। 

 

 

দু'মাস পর কাজে যোগ দেওয়ায় বিমানকর্মীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে উৎসাহ। বিমানকর্মীদের এবার থেকে পিপিই স্যুট পরে বিমান পরিষেবা চালু করতে হবে, এমনই নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। সেই মতই সোমবার থেকে চালু হয়েছে পরিষেবা।

 

 

তবে সারা দেশে এদিন থেকে বিমান পরিষেবা চালু হলেও ব্যতিক্রম বাংলা ও অন্ধ্রপ্রদেশ।। বাংলায় আমফান আছড়ে পড়ার কেন্দ্রের কাছে বিমান পরিষেবা কিছুদিন পরে শুরু করার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। সেই মতো ২৮ মে থেকে চালু হবে পশ্চিমবঙ্গে বিমান পরিষেবা। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশে শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। 

এদিকে ভারতে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। ইতিমধ্যে ইরানকে ছাড়িয়ে করোনা বিশ্বে দশ নম্বর স্থানে উঠে এসেছে ভারত। এই অবস্থায় দেশীয় বিমান পরিষেবা চালু নিয়ে আপত্তি ছিল কয়েকটি রাজ্যের। সংক্রমণ আটকাতে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্পর্শহীন বিমানযাত্রার ব্যবস্থা চালু করেছে।  যাতে বিমানে চেকিং-এর পর ওঠা থেকে নামা পর্যন্ত যাত্রীর সঙ্গে কারও স্পর্শ হবে না। 

বিমান পরিষেবা চালু করলেও আগেই কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাড়ু সহ ৬টি রাজ্য জানিয়ে দিয়েছে যেয়সব যাত্রী বিমানে করে রাজ্যে প্রবেশ করবেন, তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। যদিও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র উপসর্গহীন যাত্রীদেরই বিমানে উঠতে দেওয়া হচ্ছে। বিমানে ওঠার আহে ও নামার পরে তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হবে। এছাড়া যাত্রীদের আরোগঅয সেতু ডাউনলোড করার উপদেশও দেওয়া হয়েছে।