সরকার ও স্বল্প বেতনের চাকরি, প্রতি বছরই কোটি কোটি যুবকের চাকরি হয় প্রধাণত এই দুই কর্মক্ষেত্রে। অথচ, ভারতের অর্থনীতির এমনই মন্দা দশা চলছে যে, এই বছর এই দুই ক্ষেত্রেই অন্ততপক্ষে ১৬ লক্ষ চাকরি কম তৈরি হবে বলে আভাস দিয়েছে কম স্টেট ব্য়াঙ্ক অব ইন্ডিয়া। শুধু তাই নয়, এসবিআই-এর প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সৌম্যকান্তি ঘোষ-এর দাবি চাকরির খাতিরে ভিনরাজ্যে পারি দেওয়া ব্যক্তিরা আগে বাড়িতে যে টাকা পাঠাতে পারতেন, তারচেয়ে এখন অনেকটাই কম অর্থ পাঠাতে সক্ষম। তথ্য যা বলছে, তাতে ভারতের কনজামশন ও কর সংগ্রহ এখনও বেশ কিছুদিন দুর্বলই থাকবে।

একমাসের বেশি সময় ধরে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ জেএইউ কাণ্ড ইত্যাদি ঘটনার চাপে দেশের অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে আলোচনাটা অনেকটাই পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের উপর কিন্তু, সব চাপিয়ে অর্থনীতির চাপটা সবচেয়ে বেশি আঁটোসাঁটো হয়ে বসছে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি একদশকের মধ্যে তলানিতে এসে ঠেকেছে। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি এই বছরে ৫ শতাংশ হবে বলে দাবি সরকারে। এসবিআই-এর পূর্বাভাস আরও কম, ৪.৬ শতাংশ। কর্মসংস্থানের আশা দিয়ে ক্ষমতায় আসা নরেন্দ্র মোদীর আমলে গত ৪৫ বছরের মধ্যে বেকারত্বের হার ঠেকেছে সবচেয়ে বেশিতে।

গত সপ্তাহে ভারতের প্রাক্তন প্রধান পরিসংখ্যানবিদ প্রণব সেন জানিয়েছিলেন, ইনফর্মাল জব বা অনানুষ্ঠানিক চাকরির সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে। তাঁর মতে এই কাজ হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ ২০১৬ সালের রাত্রে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণায় বাজারে চালু দেশের ৮৬.৮৬ শতাংশ মুদ্রা বাতিল করার সিদ্ধান্ত। এই অপ্রচলিত কাজগুলির বেশিরভাগই দেশের বিশাল নগদ অর্থ-ভিত্তিক অর্থনীতিতে চলে। মোদীর ওই সিদ্ধান্তে সেই অর্থনীতির নমেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে। তাঁর মতে প্রশিক্ষণহীন, অদক্ষ তরুণরা অনানুষ্ঠানিক চাকরি ক্ষেত্রেই দক্ষতা অর্জন করত, কাজ শিখত। তারপরে তারা আরও কোনও প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক চাকরি পেত। সেই ধারাটি ভেঙে গিয়েছে।