এলাইসা পদ্ধতি - টিভিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞাপনে এইচআইভি অর্থাৎ এইডস রোগ সনাক্ত করার জন্য একাধিকবার এই পরীক্ষা পদ্ধতির কথা শোনা যায় চিত্রতারকা তথা সাংসদ দেব থেকে অনেক সেলিব্রিটির মুখে। এইবার সেই এলাইসা অর্থাৎ 'এনজাইম-লিঙ্কড ইমিউনোসোর্বেন্ট অ্যাসে' পদ্ধতিতেই করোনভাইরাস রোগীদের সনাক্তকরণ করা হবে ভারতে। পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি-র পক্ষ থেকে এই ইমিউনোলজিকাল অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভিত্তিক করোনা পরীক্ষা পদ্ধতি তৈরি করল, যা সংক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিকশিত অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করতে পারে।

রবিবার, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার হর্ষ বর্ধন বলেছেন, ভারতেই প্রথম এই ধরণের করোনাভাইরাস পরীক্ষা পদ্ধতি কাজে লাগানো হবে। ভাইরাস সংক্রামিত জনসংখ্যার আনুপাতিক নজরদারিতে এই পরীক্ষা পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এই এলাইসা পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে এইচআইভি আক্রান্তদের সনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মতোই একটি পদ্ধতি। কারণ এটিও রক্তে অ্যান্টিবডির সন্ধান করে বিচার করবে কেউ কারোনোভাইরাস পজিটিভ কি না।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা জন্য এলাইসা পদ্ধতির কথা অবশ্য ইতিমধ্যেই অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু, এর জন্য যে কিট লাগে তা প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করার চ্যালেঞ্জ কেউ নিতে পারেনি। পুনের এনআইভি-র এই পরীক্ষা পদ্ধতি বিকাশের ফলে এখন ইন্ডিয়ান মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল সারা দেশে অন্তত ৭৫টি করোনা-ধ্বস্ত জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা এবং এখনও হালকা উপসর্গ বা একেবারেই উপসর্গহীন রোগীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

এটি গোষ্ঠী সংক্রমণের এলাকাগুলি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে দাবি করেছেন বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক কর্মকর্তা। বস্তুত, এলাইজা পদ্ধতি ব্যবহার করে গোষ্ঠী সংক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার গবেষণাটি গত মাসেই শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু, চিন থেকে আমদানি করা ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটগুলি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রুটির অভিযোগ সেই পরিকল্পনাকে ধাক্কা দিয়েছিল। এইবার এনআইভি-র তৈরি কিট ব্যবহার করে ৭৫টি হটস্পট জেলায় এলোমেলোভাবে অন্তত ৩০,০০০ জন করে রক্তের নমুনা নেওয়া হবে।

গবেষণার অংশ হিসাবে, শুধু হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত জেলার লাল, কমলা এবং সবুজ অঞ্চলগুলির লোকদের এলোমেলোভাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে দেখা হবে যে তাদের দেহে করোনাভাইরাসরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা। অ্যান্টিবডির উপস্থিতি প্রমাণ করবে যে তারা ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হয়েছিলেন এবং তাদের শরীর ভাইরাসটিকে লড়াই করে হারিয়ে দিয়েছে। কোনও লক্ষণ না থাকায় তারা জানতেও পারেননি যে তাঁরা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যেহেতু ভারতে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই হয় একেবারেই উপসর্গবিহীন কিংবা তাঁদের দেহে এই রোগের হালকা লক্ষণ দেখা যায়। কাজেই এই গবেষণা ভারতের করোনা-য়ুদ্দে ্ত্যন্ত সহায়ক হবে।