ফুড ডেলিভারি অ্যাপের দৌলতে খাবার এখন আঙুলের ডগায়। খাবার অর্ডার দেওয়ার পর সেই খাবার কখন পাতে পড়বে চলে তারই অপেক্ষা। ফোনের নোটিফিকেশনে 'খাবার আসছে' দেখেই তৃপ্তি জাগে মনে। কিন্তু খিদের মুখেও যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ধর্ম তা হয়তো আগে কেউ ভাবেনি। কিন্তু সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে তাতে রীতিমতো তাজ্জ্বব সকলে। 

মঙ্গলবার রাতে অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জোমাটো-তে খাবার অর্ডার করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের অমিত শুক্লা। এদিন জোমাটোকে ট্যাগ করে  একটি টুইট করেছেন তিনি, যেখানে তিনি লেখেন, তিনি তার অর্ডারটি বাতিল করেছেন তার কারণ, একজন 'অ-হিন্দু' ব্যক্তি তাঁর খাবার নিয়ে আসছেন। অর্ডারটি বাতিল করে জোমাটোর গ্রাহক পরিষেবা বিভাগে মেসেজও করেন অমিত, তার দাবি অবিলম্বে বদলে দিলে হবে ডেলিভারি বয়। 

 

জোমাটোর তরফে তাকে জানানো হয়, তাঁরা রাইডার বদলে দেবেন না পাশাপাশি তার বাতিল করা খাবারের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে না। অমিত শুক্লার দাবি তারা তাকে তার পছন্দ নয় এমন ব্যক্তির থেকে খাবার নিতে জোর করতে পারেন না। আর তার এই টুইটের যে উত্তর দিল জোমাটো তাতেই, মন কেড়েছে  নেটিজেনদের। এদিন টুইটারে জোমাটোর তরফ থেকে লেখা হয় 'খাবারের কোনও ধর্ম হয় না, খাবারই ধর্ম'। আর এরপরই জোমাটোর এই বার্তাকে কুর্নিশ জানিয়েছে নেটদুনিয়া। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথমে গোটা বিষয়টি টুইট করে প্রথমে অমিত শুক্লা লিখেছিলেন, এই বিষয়টি তিনি আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। তবে পরে অবশ্য চাপের মুখে সেই পোস্ট সরিয়ে দেন তিনি। তবে তার মধ্যেই ওই ব্যক্তির এই কাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান জোমাটোর প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলও। এদিন টুইট করে তিনি লেখেন, ব্যবসাক্ষেত্রে গ্রাহক এবং অংশীদারদের মধ্যে বৈচিত্র বিষয়টি নিয়ে তাঁরা গর্বিত। তাঁদের এই মূল্যবোধের পথে বাধা দেয় এমন কাউকে হারালেও তাদের কোনও দুঃখ নেই।