কেন্দ্রকে জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায়। আগেই দিল্লি না গিয়ে অবসর গ্রহণ করে অব্যক্ত উত্তর  দিয়েছিলেন মোদী সরকারকে। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দিলেন চার পৃষ্ঠার চিঠিতে। সেখানেই তিনি গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ঘুর্ণিঝড় যশ (Cyclone Yaas)-এর পর্যালোচনা বৈঠকে অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এক সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শীর্ষ আমলার উত্তরটি এবার বিশদে অধ্যয়ন করবে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আগে আইনি পরামর্শও নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে না থাকার কী কারণ দেখালেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়? কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ৪ পাতার চিঠিতে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর রোষানলের সামনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকেই ঢাল হিসাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর জবাবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যের প্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মানতে তিনি বাধ্য। তাঁর নির্দেশেই ২৮ এপ্রিল তিনি প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের জনপ্রিয় সমুদ্র উপকূলবর্তী শহর দিঘায় ঘূর্ণিঝড় যশের ধ্বংসলীলার পর্যালোচনা করতে গিয়েছিলেন।

বস্তুত মোদী বনাম মমতা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন বাংলার সদ্য প্রাক্তন মুখ্য সচিব। গত ৩১ মে তাঁর মুখ্যসচিব পদ থেকে অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও বাংলার কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার থাকায় রাজ্য সরকারের অনুরোধে কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি তার কর্মজীবনের মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছিল। কিন্তু গত ২৮ তারিখের ওই পর্যালোচনা বৈঠকই সমস্ত হিসাব বদলে দেয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দ্বন্দ্ব-যুদ্ধের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত ৩১ মে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিপর্যয় মোকাবিলাা আইনের আওতায় কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিল। সেইসঙ্গে তাঁকে অবিলম্বে দিল্লির নর্থব্লকে এসে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। এরপর আর বর্ধিত মেয়াদ না নিয়ে অবসর নিয়ে ফেলেন আলাপন। এবার দিলেন শোকজের জবাব।