এক মুসলিম মেয়েকে অপহরণ করে প্রথমে ধর্মান্তকরণ ও পরে তাকে এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের প্রাক্তন মেয়র তথা বিজেপি নেত্রী শকুন্তলা ভারতী-র বিরুদ্ধে। তুলেছে। রবিবার ওই মেয়েটির বোন একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে শকুন্তলা ভারতীর বিরুদ্ধে প্রায়শই মুসলিম মেয়েদের প্রলুব্ধ করে হিন্দু ছেলেদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার অভিযোগ আনেন। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি নেত্রী এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তবে যে মেয়েটিকে ঘিরে এত কাণ্ড, সে নিজে বলেছে যে, হিন্দু ছেলেটিকে সে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছে। কেউই তার উপর চাপ সৃষ্টি করেনি। গত ৭ অগাস্ট মেয়েটি কিছু গয়না এবং নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। তারপরই তার দিদির স্বামী ওই এলাকার এক হিন্দু ছেলের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

মেয়েটির দিদির অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে এই বিষয়ে এফআইআর নথিভুক্ত করতে রাজি হয়নি। কিন্তু, সংবাদমাধ্যম-কে ডাকার হুমকি দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাঁর বোনকে খুঁজে বের করে। এরপর তাঁর বোন থানায় আসে বিজেপি নেত্রী শকুন্তলা ভারতীর গাড়িতেই। তিনিই মেয়েটিকে সবসময় আগলে রাখেন এবং তাঁর সঙ্গেও কথা বলতে দেননি বলে অভিযোগ করেছেন মেয়েটির দিদি। শুধু তাই নয়, একের পর এক মুসলিম মেয়েদের শকুন্তলা ভারতী ধর্মান্তরিত করছেন, বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।  

অভিযোগ অস্বীকার করে শকুন্তলা ভারতী বলেছেন, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এইসব কথা বলা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাতে ওই মেয়েটির ধর্মান্তরিত হওয়া বিষয়ে তাঁর কোনও যোগ পাওয়া গেলে তিনি চির জীবনের জন্য উত্তরপ্রদেশ ছেড়ে চলে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

তবে ধর্মান্তর করে নতুন বিয়ে করা মেয়েটি অবশ্য জানিয়েছে, সে দশ অগাস্ট, আর্য সমাজ মন্দিরে হিন্দু ছেলেটিকে বিয়ে করেছে। ছেলেটি তাদের বাড়িতে আসত, সেখান থেকেই তাদের আলাপ। প্রাক্তন মেয়রের সঙ্গে তাদের বিয়ের কোনও যোগসূত্র নেই। তাঁর দিদির অভিযোগও ভুল বলেই দাবি করেছে সে। দিদি তার বিয়ে মানতে পারেনি বলেই এসব বলছে বলেও দাবি করেছে সে। তবে শকুন্তলা ভারতীর গাড়িতে সে থানায় এসেছিল কেন, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি।