শুধু বিজেপিকেই নয়, ফেসবুক পক্ষপাতিত্ব করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিও। সম্প্রতি এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছে বঙ্গের সিপিএম। তাঁদের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারাও। এই বিষয়ে সরাসরি নাম জড়িয়েছে দুইবারের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়-এর। যিনি সম্পর্কে ফেসবুকের ভারত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর আঁখি দাসের শ্বশুর। অবশেষে পুত্রবধু-কে ঘিরে বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

এক সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাতকারে রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁর পুত্রবধুর ভাবমূর্তি কলুষিত করার জন্য এই বিতর্কের জন্ম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি নিজের সামর্থ্যে উচ্চতায় ওঠা এক সফল বাঙালি মহিলার বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র' বলেই মনে করছেন। তাঁর দাবি তাঁর পুত্রবধু 'অনৈতিক কিছু করতে অক্ষম'। আর এই অপপ্রচারের ফাঁদে পা না দেওযার মতো বুদ্ধি ধরেন তিনি।

সিপিএম দলকে সরাসরি 'মিথ্যাবাদীদের দল' বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি-র মতো মহান বাঙালীদের সম্পর্কেও সিপিএম কুৎসা করত, কারণ তারা কোনও বাঙালীর প্রতিভা জ্বলজ্বল করছে তা দেখতে পারে না, সেই উত্তরাধিকার বহন করেই তারা তাঁর প্রতিভাময়ী পুত্রবধূকে নিশানা করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর কংগ্রেস দল সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, 'প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে তারা এখন সিপিএম-এর নীতি অনুসরণ করে'।

তাঁর মতে ফেসবুক বা কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মই কোনও নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে না। কারণ ভারতের নির্বাচনে জয় নির্ভর করে গ্রামের ভোটের উপর, যেখানে ফেসবুক পৌঁছয় না, বলে দাবি করেছেন তিনি। জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার কারণেই ২০১৬ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতেছিলেন, এর জন্য আঁখি দাস বা অন্য কারও দরকার পড়েনি বলে সাফ জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক।

তাঁর মতে, ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভোট নিন্ত্রণ করলে, ২০১৯ সালের ভোটে নরেন্দ্র মোদী পরাজিত হতেন এবং ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সিপিএম-কংগ্রেস জোট জয় পেত, বলেই দাবি করেছেন তিনি। অদ্ভূতভাবে ২০১৬ সালের ভোটে মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস দলের হয়ে ৩৮টি ভিডিও ভাইরাল করার বিষয়ে আঁখি দাস-এর ভূমিকা ছিল বলেই অভিযোগ করেছে সিপিএম-কংগ্রেস।

তৃণমূলকে জড়িয়ে সিপিএম-এর করা এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের সঙ্গে বিজেপি-আরএসএস'এর যোগ নিয়ে সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস যৌথ সংসদীয় তদন্ত চেয়েছে। মন্তব্য করেছে বামদলগুলি-সহ অনেক বিজেপি বিরোধী দলই। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপি-কে বিভিন্ন বিষয়েই বিদ্ধ করা হলেও, এই বিষয়ে এখনও কিছুই বলা হয়নি।