এই ঘূর্ণিঝড় আসছে বাংলাদেশের দিক দিয়ে। কেউ বলছেন এটা আমফানের থেকেও ভয়ঙ্কর, আবার কেউ বলছেন বাংলাদেশের উপরই আসন্ন ঝড়ের বেশি প্রভাব পড়বে। পশ্চিমবঙ্গে ততটা নয়। রবিবার সকাল থেকেই এই খবরে তোলপাড় বাংলা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও আলোচনা হয়েছে। অনেক জায়গাতেই এখনও বিদ্যুত বা ইন্টারনেট সংযোগ নেই। সেইসব জায়গায় মুখে মুখেও ছড়িয়েছে এই খবর। আর তাতে নতুন করে অনেকে আতঙ্কিতও হয়েছেন।

কিন্তু, সত্যিই কী এতটাই ক্রুদ্ধ প্রকৃতি? ভাইরাসের সঙ্গে সঙ্গে একটি নয় একেবারে জোড়া ঘূর্ণিঝড়ের পরীক্ষার মুখে ফেলবে সে বাংলাকে?

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে এই বিষয়ে কতা বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন আর কোনও ঘূর্ণিঝড় বা বড় আকারের ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা এখনও তৈরি হয়নি। আগামী তিনদিন উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও-ও বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু ঝড়ের কোনও খবর নেই।

তাহলে একেবারে নাম নির্দিষ্ট করে ঝড়ের খবর এল কোথা থেকে? বস্তুত নিসর্গ বলে ঝড় একটি সত্যিই আসবে। কিন্তু সেই ঝড় কবে আসবে, কোথায় সেটা আছড়ে পড়বে, আদৌ ভারতে তার কোনও প্রভাব পড়বে কিনা, কিংবা তার গতিবেগ কত হবে  -  তার কোনও সুস্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। আসলে নিসর্গ হল ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণীঝড়ের নামকরণের যে ব্যবস্থা সেই অনুযায়ী আমফান পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম। আমফানের পরই সেই নিসর্গ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

২০০০ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ করা শুরু হয়েছিল। তার আগে অবধি জায়গা ও সাল অনুযায়ী পরিচিত হত এই ঝড়গুলি। কিন্তু, এতে করে নিরপ্দিষ্ট কোনও ঝড়কে চিহ্নিত করা সমস্যার হত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের পরিসংখ্যান রাখা থেকে শুরু করে সমস্ত বিষয়েই সমস্যা হত। তাই সেই সময় থেকে মহাসাগর বিশেষে তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলি থেকে ঝড়ের নামকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঝড়গুলির নাম যেমন দেয় ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। প্রথম দফার তালিকার শেষ নামটি ছিল 'আমফান'।

পরের দফার তালিকাও তৈরি হয়েছে। তার প্রথম ঝড়টির নামকরণ করেছে বাংলাদেশ, নিসর্গ। তার থেকেই সম্ভবত লোকমুখে গল্পের গরু গাছে উঠে বাংলাদেশ থেকে নিসর্গ নামের ঘূর্ণিঝড় আসার কথা রটেছে। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে আরও একবার জানানো হচ্ছে, না, নিসর্গ নামে বাংলাদেশের দিক থেকে কোনও ঘূর্ণিঝড় এখনই আসছে না। অনেক জায়গায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই সময় যাচাই না করে কেউ এই ধরণের কথা রটাবেন না।