কৃষক দিবসে আরও একবার দিল্লির আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে দেখা করল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল ।বুধবার দিল্লির সিংহু বর্ডারে পাঁচ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে দেখা করেন। দলীয় সাংসদের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলেন আন্দোলকারী কৃষকদের সঙ্গে। সিংহু বর্ডারেই চলছে কৃষকদের রিলে অনশন কর্মসূচি।  কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়াতে রিলে অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন আন্দোলনকারীরা। প্রতিদিন সিংহু বর্ডারে ১১ জন কৃষক অভুক্ত থেকে কৃষি আইনের বিরোধিতা করবে। একই সঙ্গে এদিন কৃষক দিবসের দিন আন্দোলনকারী অন্নদাতারা মধ্যাহ্নভোজ বাতিলের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। 

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে নির্দেশ বুধবার দিল্লির সিংহু বর্ডারে গিয়েছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়ন, শতাব্দী রায়, প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, ও মোহম্মদ নাদিমূল হক। তাঁরা কথা বলেন আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এদিন আরও একবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূল সাংসদরাও সেখানে গিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন তিনটি কৃষি আইনের তীব্র সমালোচনা করেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে দেশের অন্নদাতার এদিন অভুক্ত রয়েছে। 

এর আগে আরও একবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেব। আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন তিনি সর্বদা কৃষকদের স্বার্থে কাজ করেন। সিঙ্গুরে টাটা কারখানার জন্য অনিচ্ছুক জমিদাতাদের পাশে দাঁড়িয়ে টানা ২৬ দিন অনশন আন্দোলন করেছিলেন তিনি। এদিন আন্দোলনকারী কৃষকদের কাছে দলীয় সাংসদের পাঠিয়ে আরও একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। জেপি নাড্ডার বাংলা সফরের পর থেকে ক্রমশই বিবাদ বাড়ছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। আর আরও চূড়ান্ত রূপ গ্রহণ করেছে অমিত শাহর বাংলা সফর ও শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলকে কেন্দ্র করে। তারই রেশ ধরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আন্দোলনকারী কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।