দিল্লি উপকণ্ঠে কৃষক আন্দোলনে এখনও অব্যাহত রয়েছে। তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত আইন প্রত্যাহারের বিষয়ে মেনে নিতে রাজি নয়। আর সেই কারণেই আগামী ৪ঠা জানুয়ারির বৈঠকে কৃষকদের কাছেই জট কাটানোর সমাধান সূত্র চেয়েছে। কিন্তু এই কৃষক বিক্ষোভই একের পর এক সামনে আসনে কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি। হরদীপ সীং মাট্টু, জলন্ধরের কৃষক। তিনি তাঁর কন্টেনারটিকেই একটি অস্থায়ী বাড়ির রূপ দিয়েছেন। কী নেই সেখানে? শৌচাগার থেকে টিভি -সবকিছুই রয়েছে কন্টেনারের মধ্যে। হরদীপ জানিয়েছে গত ২ ডিসেম্বর থেকে তাঁর সব কাজ ছেড়ে দিয়ে কৃষক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন তিনি। সেই থেকে সেখানেই অবস্থান করে রয়েছে। তাঁর এই বন্ধু অস্থায়ী বাড়ি মাত্র দুদিনের মধ্যে তৈরি করে দিয়েছে। আমেরিকায় তাঁর ভাই থাকে। সেই ভাইই তাঁকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বলেও বলেও জানিয়েছেন তিনি। ২ ডিসেম্বর থেকে কৃষকদের লঙ্গর চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার আন্দোলনকারীকে খাবার দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

এদিন কৃষক বিক্ষোভ নমনিয়ে আরাও একবার সুর চড়াল কংগ্রেস। রবিবার কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী কৃষক আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন কৃষকরা শীতের মধ্যে টানা ৩৯ দিন ধরে জাতীয় রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন, তাঁদের দুর্দশা অন্যান্য নাগরিকদের মত তাঁকেই ব্যাথিত করেছে। বিক্ষোভ নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে।  কেউ কেউ আত্মহত্যাও করেছে। কিন্তু তারপরেও কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গতকালই উত্তর প্রদেশ দিল্লি সীমান্তে এক কৃষক আত্মহত্যা করে। 

কোভ্যাক্সিনকে 'ব্যাক আপ' ভ্যাক্সিন বলে দাবি গুলেরিয়ার, কংগ্রেসকে জবাব দিতে আসরে নাড্ডা ...

কোভিশিল্ড VS কোভ্যাক্সিন, জেনে নিন সবকিছু, রবিবারই ছড়পত্র পেয়েছে দুটি করোনা-টিকা ...

অন্যদিকে এদিন রাহুল গান্ধীও শ্যুটেড বুটেড সরকার বলে মোদী সরকারকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ ১৯১৭ সালে উপনিবেশিক শাসনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন দেশ আবারও চম্পারণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছে। আগে একদল মানুষ ছিল যারা ব্রিটিশদের সহযোগিতা করেছে। এখনও সেই ধরণের মানুষরাই মোদী ও তাঁর বন্ধুদের সহযোগিতা করার জন্য প্রাণপাত করছে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারী প্রত্যেক কৃষক আর শ্রমিকই সত্যাগ্রাহী। তাঁরা তাঁদের অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। 


বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ষষ্ঠদফার বৈঠকে বসেছিলে কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার। সেই বৈঠকে সমাধান সূত্র না পাওয়া গেলে কৃষকা আরাও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন বলে আগে থেকেই ঘোষণা করে দিয়েছেন।