করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে রবিবার দুটি টিকাকে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তারপর থেকে টিকা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন কোভ্যাক্সিনের অনুমোদন নিয়ে। কারণ দেশীয় পদ্ধতিতে ভারত বায়োটেক, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল সায়েন্স ও পুনের ন্যাশানাল ভাইরোজিল উদ্যোগে বিকাশ করা এই করোনা টিকার তৃতীয় পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনও পর্যন্ত শেষ হয়নি। তারপরেও কেন এই ভারত বায়োটেকের টিকাকে জরুরি ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হল? সব আশঙ্কার অবসান ঘটিনে দিনের শেষে টিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি বলেন তাঁর অনুমান ভারত বায়োটেকের করোনা টিকা ব্যাক আপ হিসেবে রাখা হয়েছে। 


রণদীপ গুলেরিয়ার মতে আগামী দিনে সেরাম ইনস্টিউটের তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন কোভিশিল্ডই হবে মূল টিকা। জরুরি ব্যবহারের ব্যাক আপ রাখার জন্যই ভারত বায়োটেকের করোনাভাইরাসকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ডোজ প্রস্তুত করার পাশাপাশি তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ডেটা সংগ্রহ করতে হবে এই সংস্থাটিকে। সেরামের তৈরি প্রতিষেধকের ৫০ মিলিয়ন ডোজ প্রস্তুত রয়েছে। আর সেই কারণে প্রথম দিকে কোভিশিল্ড ব্যবহার করা হবে। 


কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানান হয়েছেস সুরক্ষা ও গুণগত মান পর্যবেণ করেই জরুরি ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে দুটি ভ্যাক্সিনকে। দুটি ভ্যাক্সিন নিরাপদ বলেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। আর বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আসরে নেমেছেন বিজেপি প্রধান জেপি নাড্ডা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বারবারই দেখা গেছে ভারত যখন প্রশংনীয় কোনও কাজ করে করে যা জনসাধারণের পক্ষে মঙ্গলজনক- তখনই কংগ্রেস সেখানে তিক্ততা নিয়ে আসে। কৃতিত্বের বিরোধিতা করার জন্য উপহাস করে। তারা যত বেশি বিরোধিতা করবে তত বেশি প্রকাশিত হবেষ সর্বশেষ উদাহরণস কোভিড ভ্যাক্সিন।


এদিন ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনকে জরুরি ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়ায় তাকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে দিনের শেষে কোভ্যাক্সিন নিয়ে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নই একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।