ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের বহু প্রচেষ্টার ফসল ছিল চন্দ্রযান-২। প্রথমবার এর সফল উৎক্ষেপণ সম্ভব না হলেও দ্বিতীয়বার সুষ্ঠুভাবে উৎক্ষেপণ সফল হয়েছিল চন্দ্রযান-২-এর। সব কিছু  ঠিকঠাক হলেও তীরে এসে তরী ডুবল ইসরোর। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার দূর থেকেই হারিয়ে গিয়েছিল বিক্রম। তারপর থেকে গত ১৪ দিন ধরে লাগাতার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল বিক্রমের সঙ্গে, কিন্তু তাতেও লাভ কিছুই হয়নি। 

এখন হাতে সময় আর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মতো। তার মধ্যেই কার্যত ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে ইসরোকে। সময়ের সঙ্গে এ যেন এক লড়াইয়ে নেমেছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। কারণ ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে না পারলে চাঁদের এই অংশটিতে নেমে আসবে অন্ধকার। এর ফলে ল্যান্ডার বিক্রম তার কার্যক্ষমতা হারাবে। কারণ বিক্রমের কাজ করার জন্য যে সূর্যরশ্মি পাওয়া দরকার তা পাবে না বিক্রম। 

প্রসঙ্গত চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে চন্দ্রপৃষ্ঠের অবতরণের আগেই ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রমের। এরপর ১৪ দিন সময় ছিল বিক্রমের হাতে যার মধ্যে সেটি চাঁদের অদেখা দক্ষিণ মেরু পরিদর্শন করতে পারত। আর সেই ১৪ দিন শেষ হচ্ছে ২১ সেপ্টেম্বর। তারপরই চাঁদের ওই অংশে নেমে আসবে অন্ধকার। যার ফলে চাঁদের ওই অংশে সূর্যের আলো পড়বে না। আর সেইমতো ল্যান্ডার বিক্রমটিও এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে এর আয়ু ছিল এক চন্দ্রদিবস অর্থাৎ ১৪ দিন। 

প্রসঙ্গত, ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে ইসরোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও চন্দ্রযান-২-এর অরবিটার, যেটি চাঁদের চারপাশে পাক খাচ্ছে তার থার্মাল ইমেজে ধরা পড়েছিল। সেই ছবি পাওয়ার পর সকলের মনে কিছুটা হলেও আশার আলো জ্বললেও এক এক করে পেরিয়ে গিয়েছে তেরোটি দিন। এরই মধ্যে একাধিক বিশেষজ্ঞের কথায়, ল্যান্ডার বিক্রমটি আস্ত ছবি পাওয়া গেলেও এর কলকবজা কি আদৌ আস্ত রয়েছে কি না সেই নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। চন্দ্রযান-২-এর অবতরণ সফল হলে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের পর চতুর্থ স্থানে নাম লেখাত ভারত। কিন্তু সেই লক্ষ্য সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ বা নেই বললেই চলে। তবুও কি ঘটতে পারে কোনও মিরাকেল, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।