হিন্দু মন্দিরের ভিতরে নামাজ পড়ার কারণে ফয়জল খান ও মহম্মদ চাঁদ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জানা গিয়েছে, গত  ৩০ অক্টোবর মথুরার নন্দ বাবা মন্দিরে অভিযুক্ত দুইজন নামাজ পড়েছিলেন। সেই ঘটনা ভিডিওবন্দি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই ঘটনাকর দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করা ও প্রচারের জন্য মূল দুই অভিযুক্তের পাশাপাশি আরও দু'জনের নামও এফআইআর-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ।

রবিবার মন্দির প্রশাসন স্থানীয় থানায় ওই দুই ব্যক্দতির নামে অভিযোগটি দায়ের করেছিল। মন্দির প্রশাসনের দাবি পরিচয় গোপন করে আরও তিন ব্যক্তির সঙ্গে নন্দ বাবা মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন ফয়জল খান ও মহম্মদ চাঁদ। তাঁরা দিল্লি থেকে এসেছিলেন। তারপর আচমকাই তাঁরা মন্দির চত্ত্বরে নামাজ পড়তে শুরু করেছিলেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের আপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা প্রার্থনা থামাননি। শুধু তাই নয়, এফআইআর-এ আরও বলা হয়েছিল তাঁদের এই কাজ হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। সেইসঙ্গে এই ফটোগ্রাফগুলি অপব্যবহার হতে পারে বলে উদ্বেগ-ও প্রকাশ করা হয়েছিল। কোনও বিদেশী শক্তির অর্থায়নে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা জাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল।

এদিকে, হিন্দু মন্দিরে নামাজ পড়ার ওই ঘটনার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মথুরার বেশ কয়েকজন পুরোহিত এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের শান্তি বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করেন। নন্দ বাবা মন্দিরটি পুরোহিতরা বিশুদ্ধ করতে বিশেষ পূজাও করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অযোধ্যা রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সত্যেন্দ্র দাস-ও। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন। তবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং না দিয়ে ধর্মীয় দিক থেকে দেখা উচিত বলেও জানান তিনি। উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা লক্ষ্মীনারায়ণ চৌধুরী জানিয়েছেন এই বিষয়ে তিনি মথুরার এসপির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং এই মামলায় কঠোর তদন্ত চলছে। মন্দিরের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী-ও মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে মথুরার কৃষ্ণজন্মভূমি থেকে শাহি ইদগা মসজিদটি সরানোর দাবি করে মামলা করা হয়েছিল এক স্থানীয় কোর্টে। দাবি করা হয়েছিল মসজিদটি ভেঙে দিয়ে পুরো ১৩ একর জমিই হিন্দুদের ফেরত দিতে হবে। তবে শাহি ইদগা মসজিদ অপসারণের সেই আবেদনের নিন্দা করেছিল অখিল ভারতীয় তীর্থ পুরিহিত মহাসভা। সংস্থার সভাপতি মহেশ পাঠক জানিয়েছিলেন, বহিরাগতরাই মন্দির-মসজিদ ইস্যু তুলে মথুরার শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান মথুরায় এমন কোনও বিরোধ নেই।