রাজনীতির কারবারীদের 'বাগে আনতে' নির্বাচন কমিশনে একাধিক সংস্কার এনেছিলেন তিনি চলে গেলেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টিএন সেশন মৃত্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৯৫৫ সালের এই আইএএস অফিসার। 

রাজনীতির কারবারীদের 'বাগে আনতে' নির্বাচন কমিশনে একাধিক সংস্কার এনেছিলেন তিনি। চলে গেলেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টিএন সেশন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৯৫৫ সালের প্রাক্তন এই আইএএস অফিসার। সেশনের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাজধানীর রাজনীতির দাপটের কাছেও নত হয়নি তাঁর মাথা। দেশের নির্বাচনে উপযুক্ত ব্য়ক্তি বাছতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তামিলনাডুর এই আইএএস ক্যাডারের হাত ধরেই সরস্কারমুখী হয় নির্বাচন কমিশন। আজ যার সুফল পাচ্ছে গোটা দেশ। দেশের নির্বাচন কমিশনের ইতিহাস বলছে, ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রধান পদে আসীন ছিলেন তিনি। দেশের দশম মুখ্য় নির্বাচন কমিশনারের হাতেই শুরু হয় রাজনীতিবিদদের ওপর নজরদারি। 

সেশনের ডানা ছাটতে সেই সময় আরও দুই অতিরিক্ত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরও সেশনের ওপর খবরদারি করতে পারেনি সরকার। দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করে তোলার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। তাঁর এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পান সেশন। অনেকেই এই পুরস্কারকে এশিয়ার নোবেল বলেও বর্ণনা করেন।

১৯৩২ সালে কেরলের পালাক্কর জেলায় জন্ম নেন ভারতীয় নির্বাচন কমিশনে স্বচ্ছতা আনার এই কারিগর। পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্নাতক হয়ে মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজে তিন বছর অধ্যাপনা করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে ইন্ডিয়ান অ্য়াডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে যোগ দিয়ে প্রথমে তামিলনাড়ু পরবর্তীকালে কেন্দ্রের বিভিন্ন সচিবালয়ে কাজ করেন সেশন।

মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়ুক্ত হওয়ার আগে তাঁকে মন্ত্রিসভার সচিব পদে নিয়োগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। ১৯৯৭ সালে কে আর নারায়ণনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে দাঁড়ান তিরুনেল্লাই নারায়ণা সেশন। কিন্তু এই নির্বাচনে হারের মুখ দেখতে হয় তাঁকে। যদিও দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার উদ্য়োগ নেওয়ায় তাঁকে স্মরণ করবে দেশ।