শনিবার দক্ষিণ কাশ্মীরে দুটি পৃথক সংঘর্ষে দুই জইশ-ই-মহম্মদ সদস্যসহ চার জঙ্গি খতম হয়েছে, বলে জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ এবং সেনা কর্মকর্তারা। শনিবার সকালেই কুলগাম জেলায় এক পাকিস্তানি নাগরিকসহ জেইএম-এর দুই জঙ্গিকে খতম করে নিরাপত্তা বাহিনী। দুপুরে আবার পুলওয়ামা জেলায় আরও দুই জঙ্গির সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে।

কুলগাম জেলার চিনিগাম এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কিত পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট খবর ছিল। শুক্রবার রাতেই সেনা, সিআরপিএফ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের একটি যৌথ দল ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদীদের ঘিরে ফেলার পর তাদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, জঙ্গিরা যৌথ বাহিনীর উপর নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করেছিল। পাল্টা জবাব দেয় বাহিনী। তাতেই মৃত্য়ু হয় দুই সন্ত্রাসবাদীর। তাদের একজন, কুলগামের বাসিন্দা তারিক আহমদ মীর এবং অপরজন পাকিস্তানি নাগরিক সমীর ভাই উসমান বলে সনাক্ত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। দুজনেই জইশ সদস্য।  এক পুলিশ কর্মী হত্যাসহ বেশ কিছু সন্ত্রাসবাদী অপরাধের অভিযোগ ছিল তাদের  বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে শনিবার বিকেলে পুলওয়ামার দাদুরা এলাকায় আরও এক সংঘর্ষে দুই জঙ্গি নিহত হয়। তাদের নাম-পরিচয় এখনও অজানা। তাদের কাছ থেকে দুটি একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক পদার্থ-সহ, আরও বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সনাক্তকরণের কাজ চলছে। এই বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

এই সপ্তাহে কাশ্মীরে বেশ কয়েকবার সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ৭ অক্টোবর, দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। তার একদিন আগে গন্দেরবাল জেলায় এক বিজেপি কর্মীকে আক্রমণ করতে গিয়ে এক হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। এই হামলায় ওই বিজেপি কর্মীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছরে কোভিড, লকডাউন সবকিছুর মধ্যেও জম্মু ও কাশ্মীরে প্রায় ১৮৯ জন জঙ্গি খতম হয়েছে।