নতুন শিক্ষানীতি রোজই কোনও না কোনওভাবে বিরোধীদের আক্রমণের সামনে পড়তে হচ্ছে। অবশ্য তার উত্তরও দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিন দুই আগেই শিক্ষানীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মানবসম্পদ উন্নয় মন্ত্রকের কড়া সমালোচনা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, একতরফাভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-কে লাগু করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্যগুলির ভূমিকাকে বিচার করা হচ্ছে না। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় দেশের অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিও এই শিক্ষানীতির বিরোধিতা করেছে। এমতাবস্থায় ১১ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফের একবার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র পক্ষে সওয়াল করার সুযোগ পাচ্ছেন। আর এটা তিনি করতে পারছেন স্কুল এডুকেশন কনক্লেভ অনুষ্ঠানে। যেখানে দেশজুড়ে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবেন। যার মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষাজগতের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষ থাকবেন। 

এই কনক্লেভের মূল সূরটাই বাধা রয়েছে একুশ শতকের শিক্ষানীতি-কে সামনে রেখে। যাকে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বা এনইপি-২০২০-র অন্যতম অঙ্গ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যা ঠিক তাতে ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে স্কুল এডুকেশন কনক্লেভে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা পরব নামে যে দিবস যাপন চলছে এই স্কুল এডুকেশন কনক্লেভ তারই অন্তর্ভুক্ত। এর আগে ৭ অগাস্ট জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে তাঁর পুরো মতামত সামনে নিয়ে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যে অনুষ্ঠানের নাম ছিল কনক্লেভ অন ট্রান্সফরমেশানাল রিফর্মস ইন হায়ার এডুকেশন আন্ডার এনইপি-২০২০। এই নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি এমন এক শিক্ষানীতি যার আগে ১৯৮৬ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন হয়েছিল। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে প্রায় ৩৬ বছরের মাথায় এসে নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ণের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। 

নয়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হয়েছে তাতে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতীয় সমাজ জ্ঞানভাণ্ডারের দিক থেকে আরও বেশি ঋগ্ধ হবে এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে আরও বেশি করে পড়ুয়াদের হৃদয় এবং মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে। শুধু এটাই নয় এই জ্ঞান ভারতকে বিশ্বের অন্যতম এক শক্তিশালী শিক্ষিত এবং জ্ঞানদর্শনের অন্যতম শক্তি হিসাবেও উঠে আসতে সাহায্য করবে। যা ভারতকে বিশ্বের বুকে সুপার-পাওয়ার হতেও সাহায্য করবে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে মূল স্কুল এডুকেশনে ব্যাপক বদল আনার কথা বলা হয়েছে। এতে অতি শৈশব থেকে বহির্বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মোদী সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। এর জন্য আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশন বা ইসিসিই বলে একটি প্রকল্পের কথাও বলা হয়েছে। এই প্রকল্পে ৮ বছরের ছেলে-মেয়ে-কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এমনকী, স্কুলের উচ্চক্লাসে এখন যে মডেল রয়েছে তা হল ১০+২। এর বদলে আনা হচ্ছে ৫+৩+৩+৪-কে। পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশে যাতে অঙ্ক এবং বিজ্ঞানের ভালো মনন তৈরি হয়- সে ব্যবস্থাও নাকি যথাযথভাবে রাখা হয়েছে এই নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে। 

স্কুল এডুকেশন কনক্লেভের অনুষ্ঠানের পরের দিনই অর্থাৎ ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কার্ডে রয়েছে আরও একটি বড় অনুষ্ঠান। যার নাম গৃহ প্রবেশম। এই প্রকল্পের আওতায় অন্তত ১.৭৫লক্ষ তৈরি হওয়া বাড়িকে তাদের প্রাপকদের হাতে তুলে দেবেন নরেন্দ্র মোদী। মধ্যপ্রদেশের এই প্রকল্প তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা- গ্রামীণ বা পিএমএওয়াই-জি-এর আওতায়। এই অনুষ্ঠানেও মোদী অংশ নেবেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিটি দেশবাসীর মাথায় পাকা বাড়ির ছাদ দেওয়াটা তাঁর সরকারের লক্ষ্য। যার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার হাউজিং ফর অল বলে এটি প্রকল্পকেও গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম হয়েছে এই প্রকল্পের। এখন পর্যন্ত ১.১৪ কোটি গৃহ নির্মাণ হয়েছে এই প্রকল্পে। মধ্যপ্রদেশে এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ১৭ লক্ষ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। এই প্রকল্পে এমন মানুষজনকে বাড়ি করে দেওয়া হচ্ছে যাদের হয় মাথার উপরে কোনও ছাদ নেই অথবা     ভিটেমাটি নষ্ট হয়ে গিয়ে তা পুনর্নির্মাণে আর্থিক বাধার সম্মুখিন হয়েছেন। এই প্রকল্পে ১০০ শতাংশ আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে খরচের ৬০ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকার এবং ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকার দিচ্ছে। সুতরাং, ১২ তারিখে মধ্য প্রদেশে গৃহ প্রবেশম অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মসূচির একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে এবং বিরোধীদেরও চিন্তা যে বাড়াবে তাতে সন্দেহ নেই।