'বাবা' নিত্যানন্দের আশ্রমে ২ বছর ধরে বন্দি রয়েছে ছেলে। একবার দেখার জন্য আকুল তাঁর বাবা-মা। তাঁদের বিশ্বাস, তাঁদের ছেলে এখনও বেঁচে আছে।

ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন ইনফোসিস সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণকুমার পাল প্রায় দুই বছর ধরে ‘নিখোঁজ’। তাঁর বাবা-মা তাঁর সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে পারছেন না, এই কারণে তাঁরা সরাসরি কর্ণাটক হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, কৃষ্ণকুমার পাল ২ বছর ধরে ‘ধর্মগুরু’ নিত্যানন্দের আশ্রমে বন্দী হয়ে রয়েছেন। আশ্রম কর্তৃপক্ষ তাঁদের কিছুতেই নিজের ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না, প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই অভিযোগ পেয়েই ঝাড়খণ্ড পুলিশ রামানগরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে মামলাটি স্থানান্তর করে, কিন্তু সহায়তা চাওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও কৃষ্ণকুমার পালের সন্ধানে সামান্য অগ্রগতি হয়নি। কৃষ্ণকুমারের বাবা-মা, পদক্ষেপের অভাবে হতাশ হয়ে হাইকোর্টে যান, যার ফলে রামনগর এসপির মাধ্যমে স্বামী নিত্যানন্দর কাছে নোটিশ জারি করা হয়।

‘বাবা’ নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলিকে বিচার বিভাগ কতটা গুরুত্ব সহকারে দেখছে, তা জানিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি নির্দেশ করেন যে, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সমস্ত তথ্য দাখিল করা হোক, সরকার পক্ষের আইনজীবীকে এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পিটিশনে কৃষ্ণকুমারের বাবা-মায়ের মানসিক যন্ত্রণার উপর নজর দেওয়া হয়েছে, যাঁরা নিজের ছেলেকে একবার দেখার জন্য আকুল হয়ে আছেন, এবং তাঁদের বিশ্বাস আছে যে, কৃষ্ণকুমার এখনও বেঁচে আছেন। 

-

একজন প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কৃষ্ণকুমার পাল তুমকুরের সিদ্ধগঙ্গা কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন এবং ইনফোসিসে কাজ করেছিলেন, এটা এই মামলায় আরও ওজন বাড়িয়েছে, কারণ তাঁর হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া তাঁর পরিবার এবং বন্ধুদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাঁদের ছেলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বাবা এবং মা যে কতটা আশঙ্কিত হয়ে আছেন, সেই বিষয়টি ভিজ্যুয়াল এবং রেকর্ড সহ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।