কৃষক আন্দোলনের দু-সপ্তাহ পরেও সুর নরম করতে নারাজ আন্দোলনকারী কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর জানিয়ে দেন কৃষি আইন নিয়ে আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে আচোলনা করতে এখনও পর্যন্ত রাজি রয়েছে সরকার। এই বিষয়ে সরকারের কোনও রকম অহং বোধ কাজ করছে না বলেও দাবি করেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকের আগেই কৃষি মন্ত্রী আন্দোলনকারী কৃষকদের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কৃষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছে। 

কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর এদিন আরও বলেন, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আগেই সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠান হয়েছে। সেই প্রস্তাব নিয়ে কৃষক নেতৃত্বকে আরও আলোচনা করতে বলেন তিনি।  প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছে আসারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রের দরজা আন্দোলনকারী কৃষকদের কাছে খোলা রয়েছে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। কৃষি মন্ত্রী একই সঙ্গে কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন আইনগুলি এপিএমসি বা এমএসপির ওপর কোনও রকম প্রভাব ফেলবে না। অযথা ভয় পেতেও নিষেধ করেন কৃষকদের। তিনি আরও বলেন কৃষকদের জমি শিল্পপতিরা নিয়ে নিতে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা অযৌক্তিক বলেও দাবি করেছেন তিনি। 

অন্যদিকে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে আন্দোলনকারী কৃষকরা দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করে নিয়েছে যে আইনগুলি ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কৃষি যদি রাষ্ট্রীয় বিষয় হয় তাহলে এজাতী আইন তৈরি করার অধিকার কেন্দ্রের নেই বলেও দাবি করেছেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন(আর) এর নেতা বলবীন্দর সিং রাজেওয়াল। সিংহু বর্ডারে অন্য কৃষকনেতা বুটা সিং বলেছেন, তাঁরা সময়সূচি বেঁধেদিয়েছিলেন ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের নাকি দাবি ছিল এই দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলে। তা যদি না হয় তাহলে রেল অবরোধেরও ডাক দেবেন বলে তাঁরা জানিয়েছে। আর সেই মত পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে সংযুক্ত কিষাণ মঞ্চ। কৃষকদের কথায় স্পষ্ট তারা নতুন তিনটি কৃষি আইন বদলের দাবিতে অনড় রয়েছে। 


এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি বলেন, খোলা বাজার হলে করপোরেটদের নির্ধারিত দামে কৃষকরা তাদের তৈরি ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হবে। এই নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে তা একেবারেই ভুল বলেও দাবি করা হয়েছে। কৃষকরা যার কাছে ইচ্ছে তার কাছেই ফসল বিক্রি করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।