বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) দিল্লিতে সেন্ট্রাল ভিস্তা-য় নয়া সংসদ ভবনের ভূমি পূজা করলেন ও শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর জাতির উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তাঁর মুখে উঠে এল দুই বাঙালি মণিষীর কথা - বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ। অতীতে বারবারই মোদী জানিয়েছেন ,স্বামী বিবেকানন্দ কীভাবে তাঁকে প্রভাবিত করেছিলেন। তবে তাঁর মুখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা শুনে অনেকেই মনে করছেন, সম্ভবত এর লক্ষ্য বাংলায় বিজেপি-কে আরও জমি দেওয়া।

এদিন জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ১৮৯৭ সালে স্বামী বিবেকানন্দ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন আগামী ৫০ বছর সব কিছু ছেড়ে শুধু দেশমাতৃকার, ভারত মাতার সাধনা করতে। দেশবাসী তাঁর সেই আহ্বানে বিপুলভাবে সাড়া দিয়েছিল। তার ফলস্বরূপ, বিবেকানন্দের সেই আহ্বানের ৫০ বছর পর, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছিল ভারত।

নরেন্দ্র মোদী বলেন, নয়া সংসদ ভবনের শিলান্যাসের সময় প্রত্যেক দেশবাসীকেও সেই রকম একটি সংকল্পের শিলান্যাস করতে হবে। সেই সংকল্প হল, ইন্ডিয়া ফার্স্ট বা প্রথমে ভারত। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র পরিসরের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ভারতের উন্নতির কথা ভাবতে হবে। সকল দেশবাসীর কাছে তিনি আহ্বান জানান, ভারতের বিকাশকেই আরাধনা বানানোর। সমস্ত সিদ্ধান্ত হতে হবে দেশের ভালো সবার আগে এই ভাবনা থেকে।

আরও পড়ুন - গণতন্ত্রের মন্দিরের ভূমিপূজা করলেন প্রধানমন্ত্রী, হল সর্বধর্মের প্রার্থনা - দেখুন ছবিতে ছবিতে

আরও পড়ুন - ফাইজারের ভ্যাকসিনে 'অ্যানাফিল্যাক্সিস' সমস্যা, টিকারণ শুরুর পরই ব্রিটেনে জারি সতর্কতা

আরও পড়ুন - ২০২৫-এও প্রধানমন্ত্রী হওয়া হচ্ছে না অমিত শাহ-র, সূক্ষ্মভাবে 'মন কি বাত' বুঝিয়ে দিলেন মোদী

তিনি আরও বলেন, বিবেকানন্দ ৫০ বছরের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু, এখন স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হতে হাতে মাত্র ২৫-২৬ বছর পড়ে আছে। সেই সময়ে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে গেলে এখন থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ভারতবাসীকে কাজ করতে হবে, বলে জানান তিনি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আত্মনির্ভর ভারত গড়ার কাজ কেউ আটকাতে পারবে না। ভারতের একতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রসঙ্গেই তিনি কবিগুরুর ভাবনায় ভাবিত হতে আহ্বান জানান সকল দেশবাসীকে।

এরপরই, বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথ কবিতা আবৃত্তি করেন, 'একতা উৎসাহ ধরো,/ জাতীয় উন্নতি করো, / ঘুষুক ভুবনে সবে ভারতের জয়।' তারপর নিজেই তা হিন্দিতে ব্যাখ্যা করে বলেন, একতার উৎসাহ ধরে রাখলেই হবে জাতীয় উন্নতি। আর তাতেই গোটা বিশ্বে ভারতের জয়জয়কার হবে।

নরেন্দ্র মোদীর এই জাতীয় মঞ্চ থেকে বাংলা কবিতা আবৃত্তি করাটা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই। প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথের লেখা কবিতাটির নাম 'হোক্ ভারতের জয়'। তবে নরেন্দ্র মোদী সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন কবিতাটির আগের লাইনটিই, 'হিন্দুজনভ্রাতৃগণ! করি হে বিনয় --'।

এই প্রথম তিনি বাংলায় রবি ঠাকুরের লেখা কবিতা আবৃত্তি করলেন তা নয়, এর আগে আইসিসি অ্যানুয়াল প্লেনারি সেশনেও তিন্ 'নতুন যুগের ভোর'-এর কয়েক লাইন বলেছিলেন। তবে তাঁর ভুল উচ্চারণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন নিন্দুকরা। আগামী কয়েক মাসে রবীন্দ্রনাথ সহ আরও অনেক বাঙালি মণিষীর লেখাই তাঁর মুখে উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।