হাজার বিরোধিতা সত্ত্বেও এনআরসি প্রসঙ্গ থেকে সরল না সরকার। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন, সারা দেশে এনআরসি হচ্ছেই। তবে এর জন্য কোনও ধর্মের মানুষেরই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। যদিও বাংলায় এনআরসি হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। 

অসমে এনআরসি তালিকা থেকে ১৯ লক্ষের নাম বাদ পড়ায় উল্টো কথা বলতে শুরু করেছিল বিজেপি। খোদ অসমে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অসমের স্বাস্থ্য়মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেই সময় তিনি জানান, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিজেপি। এরপরই বিজেপির এনআরসি ইস্যুকে কার্যত হাইজ্যাক করে নেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকপঞ্জীর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বহু হিন্দু। কোনওভাবেই বাংলায় এনআরসি করতে দেবেন না তিনি। 

রাজ্যের সাম্প্রতিক অতীত বলছে, ইতিমধ্য়েই এনআরসি আতঙ্ক গ্রাস করেছে রাজ্যবাসীর মনে। বহু জায়গায় এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে মানুষ। ইতিমধ্যেই এনআরসি আতঙ্কে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে সাহায্য়ের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যার ফলে লোকসভা বোটে ১৮ আসন পাওয়ার পরও ব্যকফুটে চলে  যাচ্ছিল বিজেপি। বাধ্য হয়ে এনআরসি নিয়ে বাংলায় ধীরে চলো নীতি নিয়েছিলেন বিজেপির লোকজন। এমনকী বাংলায়  এসে এনআরসির আগে সিটিজেন্স অ্য়ামেন্ডমেন্ট বিল করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু বুধবার সব জল্পনায় ইতি টেনে এনআরসি-তেই ফিরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদে অমিত শাহ জানিয়ে দেন, আগামী দিনে অসমে ফের এনআরসি হবে। তবে শুধু অসমে নয়, অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বাইরে বের করতে সারা দেশেই এনআরসি তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এতে কোনও ধর্মের মানুষেরই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। 

রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন এই কথা বলছেন, তখন  বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে এনআরসি হবে না। নাগরিকত্ব সংশোধনীও হবে না। কেন ভয় পাচ্ছেন? হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, রাজবংশী, কামতাপুরি সহ বাংলায় যাঁরা থাকেন, তাঁরা সবাই নাগরিক। কোনও ভেদাভেদ এখানে চলবে না। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই বাংলার সম্পদ। নাম না করে গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনীর নামে কেউ কেউ কোথাও কোথাও গিয়ে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাচ্ছে। কোথাও রাজবংশী, তফসিলি এমনকী হিন্দু উদ্বাস্তুদের ভয় দেখানো হচ্ছে।