সামনেই, জম্মু ও কাশ্মীর ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচন। তার আগে মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির জোট, পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্ল্যারেশনকে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 'গুপকার গ্যাং' বলে এই জোটকে সম্বোধন করে অমিত শাহ দাবি করেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে তারা চিন ও পাকিস্তানের মতো বিদেশী শক্তিগুলির হস্তক্ষেপ চাইছে। এই নিয়ে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার চ্যালেঞ্জও করেছেন অমিত শাহ।  

এদিন বেশ কয়েকটি টুইট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'গুপকার গ্যাং' বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপে  জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফেরাতে চাইছে। তারা ভারতের জাতীয় পতাকাকেও অপমান করেছে। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন 'গুপকার গ্যাং' জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যে অপবিত্র 'বৈশ্বিক মহাজোট' গড়তে চাইছে, তা ভারতীয় জনগণ সহ্য করবে না।

সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ করে কাশ্মীরের মহাজোটের এই পদক্ষেপকে তাঁরা সমর্থন করেন কি না তা জানতে চেয়েছেন অমিত শাহ। তিনি আরও দাবি করেন, ৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদী সরকার দলিত, নারী ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু, কংগ্রেস এবং 'গুপকার গ্যাং' তা কেড়ে নিতে চায় বলেই দেশের সর্বত্র মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করছে।

ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, পিপলস কনফারেন্স, আওয়ামী ন্যাশনাল কনফারেন্স, সিপিএম, সিপিআই এবং জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট - কাশ্মীরের এই সাতটি মূলধারার রাজনৈতিক দল মিলে গঠন করেছে পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লেরেশন বা পিএজিডি। সংবিধানের ৩৭০ ধারার মাধ্যমে অতীতে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল তা পুনরুদ্ধার করার উদ্দেশ্যেই এক ছাতার তলায় এসে গত ১৫ অক্টোবর এই জোট তৈরি হয়েছিল।

তবে গঠনের পর থেকে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছে এই মহাজোট। ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর নেতা ফারুক আবদুল্লা-সহ জোটের একাধিক নেতা ৩৭০ ধারা পুনরুদ্ধারের জন্য চিন ও পাকিস্তানের সহায়তা চাওয়ার কথা বলেছেন। আবার পিডিপি-র প্রধান মেহবুবা মুফতি বলেছেন, পূর্ববর্তী জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পতাকা থাকলে তবেই জাতীয় পতাকার কোনও মূল্য রয়েছে তাঁর কাছে।