দুপুর গড়িয়ে তখন প্রায় বিকেল চলে এসেছে। আচমকা সাদা হয়ে গেল উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ-এর রাস্তাঘাট। দেখে মনে হবে কেউ সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে লখনউ-এর রাস্তায়। একই চিত্র আগ্রা-তেও। না উত্তরপ্রদেশে বরফ পড়েনি। কিন্তু, প্রবল শিলাবৃষ্টিতে প্রায় সেই চেহারাই নিল উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের এক বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সঙ্গে প্রবল ঝড়ের দাপট ও বৃষ্টিপাতে সাধারণ জনজীবন দারুণভাবে ব্যহত হল বৃহস্পতিবার দুপুর-বিকেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, এদিন দুপুরে প্রায় টমেটো আকারের শিল বৃষ্টির আকারে ঝড়ে পড়ে উত্তরপ্রদেশে। ববেশ কয়েকটি বাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে গিয়েথে শিল পড়ে। রাস্তায় পড়ে থাকা বরফে চাকা পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি মোটর বাইক ও স্কুটার। সেই সময়ে বেশ কয়েকটি স্কুল ছুটি হয়েছিল। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিল। শিলের দাপট থেকে মাথা বাঁচাতে বিপুল সংখ্যক স্কুলশিক্ষার্থী আশেপাশের দোকান ও বাড়ির নিচে আশ্রয় নেন।

লখনউ-এ এদিন দুপুর-বিকেলে অল্প সময়ের মধ্যেই ১৪.৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই সঙ্গে ছিল তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। আচমকা একসঙ্গে এতটা বৃষ্টি হওয়ার শহরের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জল দাঁড়িয়ে যায়। রাস্তায় লম্বা গাড়ির লাইন দেখা গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আগ্রাতেও এদিন ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আগ্রার গ্রামীন এলাকায় মাথায় হাত পড়েছে চাষীদের। খেত ভর্তি করে সরিষা এবং আলুর চাষ করা হয়েছিল। পাকা ফসল আর কয়েকদিন বাদেই তোলা হত। শিল পড়ে সেইসব ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

একই রকম আবহাওয়ার ছিল ঝাঁসি, মীরাট, মির্জাপুর, ওরাই এবং হামিরপুরেও। মথুরা এবং বৃন্দাবনে এমনিতেই এবার করোনার থাবায় অনেকটাই ম্লান দোল উৎসব। তার উপর এদিনের ভারী বৃষ্টিরও প্রভাব পড়েছে এই উৎসবে। বৃন্দাবনের সমাজকর্মী জগন্নাথ পোদ্দার বলেছেন, করোনাভাইরাসের ভয় ছিলই তারসঙ্গে এদিনের বৃষ্টিতে তাদের উৎসবের মেজাজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এই বছর এমনতিতেই দোলপূর্ণিমায় তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা বেশ কম। মথুরার ইস্কন মন্দিরে বিদেশি তীর্থযাত্রীদের প্রবেশ বন্ধ করেও দেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি এদিন ভারতের আরেক রাজ্য রাজস্থানের কিছু অংশেও হঠাৎ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আলওয়ার ও জয়পুর সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। সেইসব এলাকাতেও আগ্রার মতোই ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।