মঙ্গলবার ৬৯ বছরে পা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। স্বাধীনতার তিন বছর পর ১৯৫০ সালে গুজরাতের ভাড়নগরে জন্ম হয়েছিল তাঁর। বাবা একটি চায়ের দোকান চালাতেন। ছোটবেলায় বাবাকে হাতে হাতে সাহায্য করতেন তিনি। পরে নিজেই চায়ের দোকানটি চালাতেন।

মাত্র আট বছর বয়সেই তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পরই বাড়ি থেকে তাঁর বিবাহ দেওয়া হয়। যশোদাবেন চিমনলালের সঙ্গে। তবে কতদিনে আরএসএস প্রভাবে সন্ন্যাসীর জীবন কাটাবেন বলে ঠিক করে নিয়েছিলেন তিনি। এই অবস্থায় গৃহত্যাগ করেছিলেন তিনি। তারপর দীর্ঘদিন স্ত্রী-এর কথা স্বীকার করেননি। কয়েক দশক পর অবশ্য স্ত্রী-এর কথা মেনে নেন। বর্তমানে প্রদানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান যশোদাবেন।  

এরপর পরের দুই বছর গোটা ভারত ঘুরে বেড়ান তিনি। একের পর এক ধর্মীয় স্থান ঘোরেন। তারপর অবশ্য ফের গুজরাতে ফিরে আসেন। ১৯৭১ সালে তিনি পূর্ণ সময়ের জন্য আরএসএস-এর সদস্য হন। তারপর থেকে আরএসএস-এর প্রচারক হিসেবেই অনেরকটা সময় কাটিয়েছিলেন মোদী। ১৯৮৫ সালে তাঁকে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয় আরএসএস।

প্রথম থেকেই বাগ্মিতায় ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় নজর কেড়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বিজেপিতে দ্রত তাঁর উত্থান ঘটে। উল্কাপর বেগে উঠতে উঠতে ২০০১ সালে তিনি দলের রাজ্য সম্পাদক হন। সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কেশুভাই প্যাটেল। তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ছিল। পাশাপাশি ভুজ ভূমিকম্পের ত্রাণের কাজে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে ২০০১ সালেই তাঁর বদলে নরেন্দ্র মোদীকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। সেই বছরই প্রথমবার মোদী ভোটে লড়েন এবং জয় পান।

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই অবশ্য দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ২০০২ সালে গুজরাতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। এর পিছনে নরেন্দ্র মোদী প্রশাসনের মদত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে কিছুই পায়নি। তবে এরপরেও দাঙ্গা সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। এমনকী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী-ও তাঁকে রাজধর্ম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিজেপি দলে কিন্তু ক্রমে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ে। ২০১৪ সালে তাঁর নেতৃত্বেই লোকসভা নির্বাচনে বিশাল জয় পায় বিজেপি। প্রথমবার ভারতের মসনদে বসেন নরেন্দ্র মোদী। পরের পাঁচ বছরে স্বচ্ছ ভারত অভিযান, জিএসটি, নোট বাতিল, উজ্জ্বলা প্রকল্প, আয়ুষ্মান ভারতের মতো বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।  

২০১৯ সালেও তাঁর কাধে ভর করেই ভোট যুদ্ধে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তাঁর প্রতি মানুষের সমর্থন আরও বেড়েছে। সন্ন্যাসী জীবন থেকে প্রধানমন্ত্রী - সেবাই নরেন্দ্র মোদীর পরিচয় হয়ে উঠেছে।