হাথরসকাণ্ডে সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর-এ গণধর্ষণ, হত্যার চেষ্টা, হত্যাসহ একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। রবিবার তদন্তকারী সংস্থা তাদের প্রথম দফার সমস্ত কাজ শেষ করেছে। তারপরই গাজিয়াবাদ থানায় এফআইআর দায়ের করে। উত্তর প্রদেশ সরকারে অনুরোধে গত সপ্তাহেই হাথরসে নিহত নির্যাতিতার ঘটনায় তদন্তের ভার গ্রহণ করে  কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। একটি সূত্র বলছে এক সপ্তাহ ধরে তদন্তকারী সংস্থার ১৫ জন আধিকারিক পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তবে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে তাঁরা এখনও কথা বলেনি। 
 

হাথরসকাণ্ডে সিবিআই ভারতীয় দণ্ডবিধির  ৩৭৬ ডি (গণধর্ষণ), ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা), ৩০২ (হত্যা) মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি এসসি অথবা এসটি স্পেশাল অ্যাক্টের ৩ ধারায়েও মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের কিছুক্ষণ পরেই সিবিআই সূত্রে পাওয়া খবরে জানান গেছে প্রথম দফায় যাবতীয় পেপার ওয়ার্কস সারা হয়েগেছে। সোম অথবা মঙ্গলবার থেকে দ্বিতীয় দফায়র তদন্ত অর্থাৎ ঘটনাস্থল রেইকি থেকে শুরু করে তথ্য প্রমান সংগ্রহের কাজ শুরু করতে তদন্তকারী সংস্থাটি। আর সেই সময় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও তারা কথা বলতে পারে। আগামী সপ্তাহ দুয়েক হাথরসে থেকেই তদন্ত করতে পারেন সিবিআই-এর ১৫ জন আধিকারিক। সূত্রের খবর সিবিআই ক্ষতিয়ে দেখছে কেন নির্যাতিতা তরুণীকে জোর করে রাতের অন্ধকারে পরিবারের অনুমতি ছাড়া জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

গত ১৪ সেপ্টেমর হাথরসে বাজরার ক্ষেত থেকে উদ্ধার হয় ২০ বছরের এক তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। স্থানীয় হাসপাতাল তারপর আলিগড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দিল্লির হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু নির্যাতিতা দলিত তরুণী টানা ১৪ দিন লড়াইয়ের পর জীবন যুদ্ধে হার মানেন।  তারপরেই রাতারাতি দলিত তরুণীর দেহ তাঁর পরিবারে হাতে তুলে না দিয়ে জোর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। তারপরই যোগী আদিত্যনাথ ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেন সিবিআইকে। একটি সূত্র বলছে সিবিআইএর আধিকারিকরা খুব তাড়াতাড়ি হাথরস যাবেন। প্রথমেই তাঁরা দেখা করতে পারেন হাথরসের পুলিশ সুপার। কেস ডাইরিসহ ঘটনার বাকি তথ্যও তদন্তকারীরা নিজেদের হেফাজতে নিতে পারেন।