মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতে আগমনের দিনই ফের সিএএ আইন নিয়ে উত্যপ্ত হল রাজধানী। সোমবার উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ ও মৌজপুর এলাকায় সিএএবিরোধী ও সিএএ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হল দিল্লি পুলিশের এক হেড কনস্টেবল-এর। এছাড়া, কমপক্ষে দুটি বাড়ি এবং একটি দমকলের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জাফরাবাদের চাঁদবাগ এলাকা থেকেও হিংসার খবর পাওয়া গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, হেড কনস্টেবল রতনলালকে গোকুলপুরীর সহকারী পুলিশ কমিশনার-এর কার্যালয়ের সামনে নিযুক্ত করা হয়েছিল। সেখানেই তীব্র সিএএ সমর্থক ও সিএএ বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। দুই পক্ষে ব্যাপক ইঁট ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। তার মধ্যে পড়েই রতনলাল-এর মৃত্যু হয়। এছাড়া, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত-ও হয়েছেন। মাথায় ও হাতে আঘাত নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে শাহদারার ডিসিপি অমিত শর্মা-কে।

দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ করে ও লাঠিচার্জ করে। উত্তর-পূর্ব দিল্লি জেলার দশটি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ডিসিপি (উত্তর-পূর্ব) বেদপ্রকাশ সূর্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় জাফরাবাদের কাছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-এর বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষের পথ অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকেই সিএএ বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাই এদিন মারাত্মক আকার ধারণ করে।

মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং লেফট্যানেন্ট গভর্নর-এর কাছে আর্জি জানিয়েছেন। জনগণের কাছে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তে ডেপুটি সিএম মনিশ সিসোদিয়া টুইট করেছেন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া-ও। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লেফট্যানেন্ট গভর্নর অনিল বৈজাল দিল্লির পুলিশ কমিশনার-কে শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে জনসাধারণকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। দিল্লির জাফরাবাদ ও মৌজপুর-বাবরপুর মেট্রো স্টেশনের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে।