বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যখন করোনা ভ্যাকসিন গুলির কার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তখন ভারতের অন্তত তিনটি করোনভাইরাস ভ্যাকসিন প্রার্থীদের নিয়ে আশা দেখা যাচ্ছে। সোমবার এমনটাই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। অবশ্য এই মুহূর্তে এই সম্ভাব্য টিকাগুলি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের স্তরে রয়েছে। যে দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে একটি ভ্যাকসিন তৈরির জন্য গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে, তাতে ভারত সরকার আশাবাদী যে ২০২১ এর প্রথম তিন মাসের মধ্যেই ভারতে তৈরি একটি বা একাধিক ভ্যাকসিন বাজারে চলে আসবে, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  

ততদিন পর্যন্ত অবশ্য ভারতকে অসহায়ভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা গুণে যেতে হবে। সোমবার ভারতে মোট কোভিড আক্রান্তের ক্ষেত্রে সংখ্যা ৬০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মোট ৮২,১৭০ জন নতুন রোগীর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যাও কিছুটা কমে প্রায় ৭ লক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে কোভিড জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ১,০৩৯ জনের। যার ফলে মোট কোভিড-মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০,৫৪২। এই নিয়ে একটানা ২৭ দিন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ১০০০-এর বেশি হল।

ভারতের সঙ্গে সঙ্গে বাকি বিশ্বের অবস্থাও এখনও শোচনীয়। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্র্যাকার অনুসারে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ ছুঁই ছুঁই। বিশ্ব ব্যপী ভাইরাস বিকাশ নিয়েও খুব একটা আশার খবর নেই। রাশিয়া ও চিন, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করলেও তাদের ক্লিনিকাল ট্রায়াল এখনও শেষ হনি। অন্যদিকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা মার্কিন ভ্য়াকসিন প্রার্থীদের কর্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। গবেষণা বলছে এখনও পর্যন্ত কোনওটিই কোভিড-এর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে সক্ষম নয়।