এসি ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলে না। বাড়ি-অফিস তো আছেই। এমনকী বাস-ট্রামটুকুও বাতানুকুল হলেই যেন ভাল হয়। এই বিশ্বাসেই আপাতত থিতু আমরা। আর  আমাদের এই চালু অভ্যেসকেই চ্যালেঞ্জ করছেন তিনি।

অধ্যাপিকা হেমা সানে। মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা এই ভদ্রমহিলা তাঁর নিজের বাড়িতে  দিব্যি বছরের পর বছর বেঁচে রয়েছেন বিদ্যুৎ ছাড়া। তাঁর বর্তমান বয়েস ৭৯।  সাবিত্রীবাঈ ফুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট, গারওয়ার কলেজের প্রাক্তন শিক্ষিকা হেমা দেবীর বর্তমান বেঁচে থাকার সঙ্গী তাঁর পুষ্যি। অসংখ্য সবুজ গাছে এসে বসা পাখিদের কিচিরমিচির, বেড়ালের ডাক, বেজির দৌড়োদৌড়ি এসবই সঙ্গী তাঁর। এখানে বসেই প্রকৃতি বিষয়ে নানা বই লিখেছেন এই বৃদ্ধা।

অনেকে এসেছে ফার্ম হাউজের জন্যে বাড়ি কিনতে। আরও নানা প্রলোভন ছিল জীবনের, আরামের হাতছানি ছিল। কিন্তু কোনও ভাবেই তাঁকে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে নড়ানো যায়নি। গাছ হোক বা পাখি, নিজের হাতেই চারপাশের পরিচর্যা করেন হেমাদেবী। সুবিধে অসুবিধে কেউ জিজ্ঞেস করলে মনে করিয়ে দেন বুদ্ধের বাণী, "নিজের জীবনের পথ খুঁজতে হবে নিজেকেই।"