চরবৃত্তির দায়ে পাকিস্তানে জেলবন্দি ভারতের কুলভূষণ যাদব। ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা অফিসারকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তান আদালত। আজ, বুধবার  দুপুর ৩টেয় আন্তর্জাতিক আদালতে সেই মামলার রায় বেরনোর কথা আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে।  আইনি বিশেষজ্ঞরা এই মামলায় পাকিস্তানের হারের আশা করছেন। 

কুলভূষণ মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত যে যুক্তিগুলো খাড়া করেছিল সেগুলি হল- 

১) পাকিস্তান দায়িত্বহীন একটি দেশ। আন্তর্যাতিক নিবন্ধ যেমন, ভিয়েনা চুক্তিকে বার বার লঙ্ঘন করেছে এই দেশ। এছাড়াও পাকিস্তান নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। 

আরও পড়ুনঃ বুধবার আন্তর্জাতিক আদালতে কুলভূষণ মামলার রায়, বাতিল হতে পারে ফাঁসির আদেশ

২) পাকিস্তানের সেনা আদালতকে হাস্যকর বলেও দাবি করা হয়। পাকিস্তানের সেনা আদালত গড়া হয় ২০১৫ সালে । অল্প সময়ে  বিচার সম্পন্ন করার জন্য এই আদালত গড়া হয়েছিল। ২০১৭-র পর থেকে বেশ কয়েকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এই আদালত। এমনকী, কুলভূষণ যাদব ‌মামলার জন্য নিজের পছন্দের আইনজীবীও বেছে নিতে দেওয়া হয়নি। বন্দিদশায় তিনি যা বয়ান দিয়েছেন তার উপরে ভিত্তি করেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। 

৩)অন্তর্বর্তী সমস্যার জন্যই কুলভূষণকে ব্যবহার করছে  পাকিস্তান। বালোচিস্তানে চলা সমস্যার জন্যও কুলভূষণকে ব্যবহার করে ভারতের দিকে আঙুল তুলছে পাকিস্তান।  বালোচিস্তান থেকেই ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা অফিসারকে গ্রেফতার করেছিল পাক সেনা। ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে সীমান্তে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে পাকিস্তানের। ইরানের বিরুদ্ধে জইশ আল আদি-র মতো জঙ্গিগোষ্ঠীকে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। ইরান সরকারও সীমান্তে পাক অধ্যুষিত জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যকলাপ সম্পর্কে জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তকমা পাওয়া জানদুল্লাহেরই অংশ জইশ আল আদি। জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

৪) কুলভূষণ যাদবকে দেওয়া পাকিস্তানের মৃত্যুদণ্ডকে স্থগিত রাখতে ভারত আন্তর্জাতিক ন্য়ায় আদালতে আবেদন করে সফল হয়েছে। ফলে পাকিস্তান নিজের হাতে আইন নিতে পারেনি। 

৫) পাকিস্তান দাবি  করেছিল আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে কোনও বিচারব্যবস্থা নেই। সেই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। 

৬) আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত ও ভারতের আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পাক সেনাকে সামাল দেওয়া গিয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ইরান সীমান্ত দিয়ে বালোচিস্তানে প্রবেশের পরেই ২০১৬ সালে ৩ মার্চ কুলভূষণ যাদবকে চর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। নয়া দিল্লি থেকে  জানায়, ইরানে ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁকে অপহরণ করা হয়।