করোনার প্রভাবে লকডাউন ইতালি। আর সেই বন্ধ ইতালি থেকেই রীতিমত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর মেয়েকে। কেন্দ্রীয় সরকার ও ইতালিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীদের চিঠি লিখে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা সঞ্জয় কদম। পাশাপাশি লিখে জানালেন তাঁর সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলির দমবন্ধ করা অভিজ্ঞতার কথা। কেন্দ্রের মোদি সরকারের উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিতে সবটা জানিয়েছেন সঞ্জয়। বর্তামানে তাঁর মেয়ে ফিরে এসেছে দেশে। ভর্তি রয়েছে দিল্লির ইন্দো টিবেট বর্ডার পুলিশের হাসপাতালে। 

আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত গোমূত্র সেবনের জন্যই কী হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল যোগগুরু রামদেবকে, জানুন সত্য কথা

খোলা চিঠিতে সঞ্জয় জানিয়েছেন, গত চৌঠা ফেব্রুয়ারি তাঁর মেয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য মিলানে পৌঁছে গিয়েছিল। কোর্স শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০ ফেব্রুয়ারি। রঙিন স্বপ্ন ছিল তাঁর মেয়ের চোখে। কিন্তু সবই লন্ডভন্ড হয়ে যায় করোনাভাইরাসের কারণে। কোর্স শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয় তাঁর মেয়ের কলেজ।  ক্রমশই বাড়তে থাকে করোনার আক্রমণ। এই অবস্থায় তাঁরা মেয়েকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁদের মেয়ে জানিয়েদেন ইতালির পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। তাই সে থেকে যাওয়ার কথাই বলে। মেয়ের কথা মত তারা ইতালিতে মেয়ের বাড়িভাড়ার টাকা অনলাইনেই পেমেন্ট করে দেন। কিন্তু তখন তাঁরা জানতে না আরও ভয়ঙ্কর বিপদ তাঁদের মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ আতঙ্কের ৩০ দিন হল শুরু, সাবধান না হলে করোনা নিতে পারে ভয়ঙ্কর আকার

করোনার ভয়ঙ্কর প্রকোপের কারণে লকডাউনের কথা ঘোষণা করে ইতালি সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয় সব দোকানপাট,  শপিংমল। রাস্তঘাট শুনশান হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ইতালি থেকেই তাঁর মেয়ে তাঁকে জানান আগামী ১৫ দিনের মত খাবার মজুত রয়েছে তাঁর কাছে। ইতালির ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির খবরে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সঞ্জয় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে তাঁরা মেয়েকে দেশে ফিরে আসার কথা বলেন। কিন্তু কিছুটা হলেও বাধ সাধে ইতালি সরকার। কেন ইতালি ছেড়ে যেতে চাইছে, তা জানতে চাওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। 

তারপরই মেয়েকে দেশে ফেরাতে উদ্বিগ্ন বাবা চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু ১২ মার্চ রাত ৮.৩০মিনিটে তিনি দেখেন ইতালিতে অবস্থিত ভারতী দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর ইন্টারনেটে আরও সার্চ করে ইতালিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের ৮ কর্মীর মেল অ্যাড্রেস তিনি জোগাড় করেন। তারপরই ইতালিতে বসবাস রত মেয়ের অবস্থা জানিয়ে তাঁদের জরুরী ভিত্তিতে মেল করেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বস্তি পান তিনি। কারণ ১৩ মার্চ ভারতীয় সময় রাত ১০.৩০ মিনিটে তাঁর মেয়ে তাঁকে টেলিফোনে জানায় যে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আর অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ১৫ মার্চ দেশে ফেরে তাঁর মেয়ে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। 

কেন্দ্রীয় সরকারের তৎপরতা  মেয়ে সুস্থ অবস্থায় ইতালি থেকে ফেরায় খুশি বাবা। উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রের মোদী সরকারের। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ও আধিকারিকদেরও প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করে নেন তাঁর দীর্ঘ দিনের ভুল ভেঙে দিয়েছে মোদী সরকার। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার কোনও কাজ ঠিকমত করেনা এই অভিযোগ তুলে অতীতে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন তিনি। 

ইতালিতে ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে করোনা। ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে এই দেশেই করোনার জীবানু এখনও পর্যন্ত ১,৮০৯ জনের প্রাণ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জন। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভয়ঙ্কর মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে লকডাউনের পথেই হেঁটেছে ইতালি প্রশাসন।