ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গেলে নগদের জোগান বাড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই। বেকারির হার গত  ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ হার ছুঁয়েছে।বৃদ্ধির হার কমতে কমতে ৩.৫শতাংশে এসে ঠেকেছে। যাকে তুলনা করা হচ্ছে নেহরুর আমলের হিন্দু রেট অব গ্রোথের  সঙ্গে। যখন বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের আশপাশে ঘোরাঘুরি করত। ভোগ্য়পণ্য়ের চাহিদা তলানিতে এসে ঠেকায়, নতুন করে বিনিয়োগ করতে রাজি হচ্ছেন না কেউ। এমতাবস্থায় দেশজুড়ে চলছে ছাঁটাই। গাড়ি শিল্প থেকে নিয়মিত কাজ ছাঁটাইয়ের খবর আসতে থাকছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে আবাসন শিল্পও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্য়াপক কর্পোরেট কর ছাড় দিয়েও কাজের কাজ কিছু হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দরকার ছিল গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু সে পথে না-হেঁটে একশোদিনের প্রকল্পের মতো বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্য়য় ছাঁটাই করল কেন্দ্রীয় সরকার। বলা হচ্ছে, আয়করে কিছুটা ছাড় দিলে মধ্য়বিত্তের হাতে অতিরিক্ত কিছু টাকা আসবে। তাতে করে কেনাকাটা বাড়বে। বর্তমানে আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা আড়াই লক্ষ টাকা। এখন আড়াই থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর ৫ শতাংশ আর ৫ থেকে  ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে করের হার ১০ শতাংশ। টাস্কফোর্সের সুপারিশ, ২.৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে করের হার ১০ শতাংশ করা হোক। বর্তমানে ১০ লাখ টাকার বেশি আয়ে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ, ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে ২০ শতাংশ, ২০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ে ৩০ শতাংশ আর তার ওপরে ৩৫ শতাংশ আয়কর নেওয়া হোক। মনে করা হচ্ছে সরকার এই সুপারিশ মেনে নিলে মধ্য়বিত্তের সুরাহা হবে।

যদিও মোদী সরকারে প্রাক্তন মুখ্য় আর্থিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রম্ভণ্য়নের মতে, আয়করের হার কমিয়ে কাজের কাজ কিছু হবে না। কারণ, দেশে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ আয়কর দেন। তাই তাঁদের হাতে নগদের জোগান কিছুটা বাড়লেও বাজারে কেনাকাটা সেভাবে বাড়বে না।  অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গেলে একশো দিনের কাজের মতো বিভিন্ন গ্রামীণ প্রকল্পের মধ্য়ে দিয়ে আমজনতার হাতে আরও বেশি  টাকা তুলে দিতে হবে। তবেই চাহিদা বাড়বে। সম্প্রতি, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও গ্রামের মানুষের হাতে নগদ জোগানের পরিমাণ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন। অনেকেই মনে করছেন, আয়কর ছাড়ে ধনীদের সুরাহা মেলে। আমজনতার হাতে টাকা আসে না। আর তাতে করে অর্থনীতির চাকাও ঘোরে না।

এমতাবস্থায় পরিকাঠামো কাঠে আরও বেশি বিনিয়োগেক কথা বলা হচ্ছে। ভারতকে ৫ লক্ষ  কোটি ডলারের অর্থনীতির পথে নিয়ে যেতে গতবারের বাজেটেই পরিকাঠামো কাঠে ব্য়াপক বিনিয়োগ করা হয়ছিল। এবার তা  আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এখন প্রশ্ন একটাই। আর তা হল রাজকোষের ঘাটতি। কর্পোরেট করের হার কমাতে গিয়ে ইতিমধ্য়েই  ১.৪৫ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তাই এবারের বাজেটে আয়করে ছাড় দিয়ে, পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে গেলে রাজকোষ ঘাটতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।