করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই বিহার তৈরি হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য। মহামারির এই সময় যখন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কথা সব জায়গায় বলা হচ্ছে তখনও বিহারে রীতিমত চলছে রাজনৈতিক সমাবেশ। রবিবার ছিল আরজেডির প্রতিষ্ঠা দিসব। আর সেই দিনেই সাইকেল নিয়ে মিছিল করেন লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী যাদব। বিহারে তিনি নীতিশ কুমারের প্রধান প্রতিপক্ষ। তাই করোনার পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিক ইস্যুতেই রীতিমত সরব ছিলেন তেজস্বী। 

তেজস্বীদের প্রতিপক্ষ নিতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড ও বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে লালু প্রসাদের সঙ্গে জোট বেঁধে বিহারের মসনদ দখল করেছিলেন নীতিশ। পরাজিত করেছিলেন বিজেপিকে।  কিন্তু মাঝপথেই পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় লালু প্রসাদ গ্রেফতার হওয়ার আগেই আরজেডি-র হাত থেকে বিজেপির হাত ধরেন তিনি। তারপর থেকে বিহারের ক্ষমতায় রয়েছে গেছেন নীতিশ। সূত্রের খবর আগামী ৭ অগাস্ট থেকে ভার্চুয়াল প্রচার শুরু করবেন নীতিশ কুমার।  বর্তমানে দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় চলছে তাঁর বৈঠক। তৈরি হচ্ছে ভোট বৈতরনী পারের নক্সা। 


অন্যদিকে ভোটের ঘণ্টা বেজে গেছে বন্দিদশাতেই নড়েচড়ে বসেছেন আরজেডির প্রতিষ্ঠা ও বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব। তিনি ইতিমধ্যেই জেল থেকে বারহওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করেছেন। এই রাজ্যে পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটিতেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই জামিন পাওয়ার আশা খুবই কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লালু প্রসাদ যাদব যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন বিহার ও ঝাড়খণ্ড আলাদা রাজ্য হয়নি। 

অন্যদিকে বিহারের ভোট নিয়ে রীতিমত মরিয়া  বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। করোনাভাইরাসের এই সংকটকালের কথা মাথায় রেখে অমিত শাহ ভার্চুয়াল মিটিং করেছেন। বিহারের বিজেপি ও জনতাদল ইউনাইটেড নেতৃত্বের সঙ্গে বসে ভোট জয়ের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছেন বলেও সূত্রের খবর। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও  বিহার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তাঁর সদ্যো জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বিহারের বিশেষ উৎসব ছট পুজোর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন ছট পুজো পর্যন্ত বিনামূল্য খাদ্য শস্য দেওয়া হবে দেশের আশি কোটি মানুষকে। 

বিহারে মোট ভোটারের একটা বড় অংশই অভিবাসী শ্রমিক।  করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের কারণে অনেকেই কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাই তাঁদের কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী ছট পুজোর কথা ঘোষণা করেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে বিহারে এখনও তেমন সুবিধে করে উঠতে পারেননি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে শাসক ও জোটসঙ্গীরা।  

বিহারের বেশ কতগুলি সমস্যা রয়েছে। যেগুলি দিনের পর দিন ধরেই অবহেলিত রয়েগেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় সামনে এসেছে বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা। প্রতিবছরই বানভাসি হয় বিহার। যা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও অ্যাকশান প্ল্যান তৈরি করা হয়নি।  বেহাল শিক্ষা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। 


২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় বর্তমানে নীতিশ কুমারের দল ৭০টি ও সহযোগী বিজেপি ৫৪আসন দখল করে রয়েছে। বিরোধী পক্ষে থাকা লালু প্রসাদের দলের আসন সংখ্যা ৮০। কংগ্রেসের দখলে রয়েছে ২৬টি আসন। আগামী নভেম্বরে নির্বাচন হতে পারে বলেই সূত্রের খবর। আগামী দিনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবেধেই কি লালুর দল লড়বে? তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই কিছুটা হলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। কারণ বিহারে রীতিমত ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়ে জেএনইউ-র প্রাক্তন কানহাইয়া কুমার। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির গিরিরাজ সিং-এর কাছে হেরে হেরে গেলেও লড়াইয়ের ময়দান তিনি যে ময়দান ছাড়েননি তার প্রমান দিয়েছেন একাধিকবার।