নাম না করে আবারও চিনকে নিশানা করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সি। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন কোনও রকম চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত। দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এই দেশ। যে কোনও রকম আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষমতা ভারতীয় সেনাদের রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন তিনি। পূর্ব লাদাখে সীমান্তের উত্তাপ কমাতে ভারত ও চিন আট নম্বর সামরিক বৈঠকের মুখোমুখি হওয়ার প্রাককালেই রাজনাথ সিং-এর এই মন্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। 


জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ আয়োজিত একটি ভার্তুয়াল সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং আরও বলেন, যে ভারত একটি শান্তিকামী দেশ। আলোচনার মধ্যে দিয়েই সমস্ত বিবাদ মিমাংশা করার পক্ষপাতী। কিন্তু ভারতের এই শান্তিকামী রূপ দেখে কেউ যেন না নিশ্চিত না হয় যে আগ্রাসন প্রতিহত করার মত ক্ষমতা ভারতের নেই। আগামিকালই অষ্টম সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত ও চিনের মধ্যে। কমান্ডার পর্যায়ের এই বৈঠক হতে পারে চুসুল সীমান্তে। সীমান্ত উত্তাপ কমাতে উভয় দেশই একাধিক কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনায় বসেছে। 

গত মে মাস থেকে ভারত ও চিন পূর্ব লাদাখ সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। চিনা সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন এলাকায় ঘাঁটি তৈরি করে অবস্থান করছে। প্রাথমিক পর্বে চিনা সেনার আগ্রাসন ভারতীয় সেনা বাহিনী প্রতিহত করতে পেরেছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয়  সরকার। বর্তমানে ভারতীয় সেনা বাহিনী কৌশলগত অবস্থানে অনেকটাই ভালো জায়গায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের দাবি এপ্রিল মাসের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে চিনা সেনাকে। যদিও চিনা সেনার দাবি ভারতকেও প্যাংগং গোগরাপাসসহ একাধিক এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হবে। সবমিলিয়ে বর্তমানে কিছুটা জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকা। আর সেই কারণেই সীমান্ত উত্তাপ এখনও রয়ে গেছে।