রিপাব্লিক টিভির এডিটর অর্ণব গোস্বামীকে জেলেই যেতে হত। মহারাষ্ট্রের আলিবাগ আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এটা খুব সহজে হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে চলে শুনানি। প্রায় ৬ ঘণ্টা শুনানির পর মধ্যরাতে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আলিবাগ আদালত। পাশাপাশি গ্রেফতারির সময় মহারাষ্ট্রের পুলিশ তাঁকে নিগ্রহ করেছিল বলে যে অভিযোগ তুলেছিলেন অর্ণব গোস্বামী, তাও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। তবে রিপাব্লিক টিভির এডিটর অর্ণব গোস্বামীকে প্রথম থেকেই পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়েছিল। পুলিশের সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি। 

বুধবার সকাল ৬টা নাগাদ দুবছরের পুরনো একটি মামলার তদন্তের কারণে অর্ণব গোস্বামীর বাড়িতে গিয়েছিল মহারাষ্ট্রের পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে সেখানে পুলিশ বারবার অর্ণব গোস্বামীকে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা বলে। কিন্তু অর্ণব গোস্বামীর অভিযোগ পুলিশের দুই অফিসার তাঁক সঙ্গে অত্যান্ত খারাপ হ্যবহার করে। তাঁকে মারধর করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। পুলিশের ভ্যান থেকে সাংবাদিকদের সেই কথাই জানিয়েছিল অর্ণব গোস্বামী। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগ তুলে সরব হন অর্ণব গোস্বামীর আইনজীবী।


বৃহস্পতিবার অর্ণব গোস্বামীর মামলা শুনবে বোম্বে হাইকোর্ট।  সেখানে তিনি জামিনের আবেদন জানাবেন বলেই সূত্রের খবর। পুলিশ সূত্রের খবর তারা জামিনের বিরোধিতা করবে। প্রায় ২ বছর পুরনো একটি মামলার তদন্তের কারণেই অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার অন্বয় নায়েককে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ভোররাতে বাড়িতে ঢুকে রিপাব্লিক টিভির এডিটর অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিশ। ২০১৮ সালে আত্মহত্যা করেছিলেন অন্বয় ও তাঁর মা। তার আগে অবশ্য সুইসাইড নোটে তাঁরা দুজনেই দায়ি করেন অর্ণবসহ তিন জনকে।  অন্বয়, রিপাব্লিকান টিভির সঙ্গে কাজ করতেন। বিলের টাকা না মেটানোর অভিযোগ উঠেছিল অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশ এই মামলাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর অন্বয়ের মেয়ে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অনিল দেশমুখের দ্বারস্থ হন। তারপরই  আবারও শুরু হয় তদন্ত। বুধবারই মহারাষ্ট্র পুলিশের এই ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন নিহত অন্বয়ের পরিবার। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে জানিয়েছেন তাঁরা মহারাষ্ট্র পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁরা জানিয়েছেন পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার বিরুদ্ধে তাঁদের একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁরা অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অর্ণবের গ্রেফারিতে তাঁরা খুশি বলেও জানিয়েছেন। 

অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারি নিয়ে আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্র বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের বিবাদ। অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে স্মৃতি ইরানি, প্রকাশ জাভডডকর সকলেই সরব হয়েছিলেন। তাঁরা সংবাদ মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। পাশাপাশি গোটা বিষয়টিকে জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।