দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিবাদ, অবশেষে মিটমাটের পথে এগোচ্ছে। তবে সবটাই নির্ভর করছে চিনের উপর। তারা এরমধ্যে আবার কোনও নতুন খেলা না শুরু করলে, আলোচনার পথেই সীমন্ত বিবাদ সমাধান করা যাবে বলে শোনা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, কমান্ডার স্তরের সাত দফার আলোচনায়, সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস করতে দু'দেশের মধ্যে গুরুতর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের কয়েকটি পদক্ষেপের পর এখন চিনের মনোভাব অনেকটাই শিথিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনার একটি সূত্র। তবে এই বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

বৃহস্পতিবার, এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে কথোপকথন অত্যন্ত গোপনীয় এবং এখনই এই বিষযে কোনও মন্তব্য করাটা খুব তাড়াহুড়ো হযে যাবে। বস্তুত টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত বিরোধের বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে চাইছে ভারত। অর্থাৎ শুধু গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং হ্রদ বা গোগরা হট স্প্রিং-এর মতো পূর্ব লাদাকের বিতর্কিত এলাকাগুলি নিয়েই নয়, একেবারে লাদখ থকে অরুণাচল পর্যন্ত বিস্তৃত ভারত-চিন সীমান্তের যে যে বিতর্কিত এলাকা নিয়ে দুই দেশের সেনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, তার সবকটি এলাকা নিয়েই আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। সবটি এলাকা থেকেই চিনকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে।

এই আলোচনায় যে বিশাল সাফল্য এসেছে তা এখনই বলা যাবে না, এমনটাই জানা গিয়েছে সেনা সূত্রে। যে কারণে এখনও এই বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হচ্ছে না। তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় এখন চিনের সুর বেশ নরম বলেই দাবি করেছে সেনার ওই সূত্র। বলা হচ্ছে আলোচন যদি এইভাবে চলতে থাকে, তবে বলা যেতে পারে যাবতীয় বিতর্কের অবসানের সূচনা হয়েছে। আর চিনের এই ভোল বদলের পিছনে রয়েছে ভারতের কিছু সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ।

প্রকৃতপক্ষে, ভারতীয় সেনারা প্যাংগং হ্রদ সংলগ্ন উঁচু পাহাড়গুলি পুনর্দখল করার পর থেকেই চিনের মনোভাবে এই শৈথিল্য দেখা গিয়েছে। এর পাশাপাশি বলতে হবে আরেক সরকারি কর্মকর্তার নাম - ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পদস্থ কর্তা নবীন শ্রীবাস্তব। দর কষাকষিতে সিদ্ধহস্ত বিদেশ মন্ত্রকের এই কর্তাকেই কেন্দ্র ষষ্ঠ ও সপ্তম দফার কমান্ডার স্তরের আলোচনায় অংশ নিতে পাঠিয়েছিল। নবীন শ্রীবাস্তবের উপস্থিতিই ওই দুই বৈঠককে সাফল্যমণ্ডিত করেছে বলে খবর। সেই আলোচনা যে সফল হয়েছিল, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এই দুই দফার আলোচনার শেষে ভারত ও চিন - দুই দেশ যৌথ বিবৃতি জারি করেছে। এই পথেই ধীরে ধীরে আলোচনার টেবিলেই যাবতীয় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে বল আশা করা হচ্ছে।