সামরিক শক্তি নিয়ে যতই বরাই করা হোক, দেশের মানুষের ক্ষুধা নিবৃত্তির বিচারে ভারত এখনও প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স ২০২০-এ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ নেপাল, শ্রীলঙ্কার থেকে পিছিয়ে ভারত। আর চিন? তারা এই বিষয়ে অনেক অনেকটাই এগিয়ে।

রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে যে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স ২০২০ প্রকাশ করা হয়েছে, সেই সূচক বলছে ১০৭ টি দেশের মধ্যে ভারত রয়েছে ৯৪ তম স্থানে। অর্থাৎ ক্ষুধা নিবৃত্তির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থা এখনও গুরুতর। সমীক্ষা অনুসারে, ভারতের জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ লোক অপুষ্টির শিকার। গত বছর ভারতের জিএইচআই র‌্যাঙ্ক ছিল ১১৭ টি দেশের মধ্যে ১০২তম। কাজেই এই বিষয়ে ভারত যে মোটেই এগোতে পারেনি, তা বলাই বাহুল্য। এই বছরের জিএইচআই অনুযায়ী বিশ্বের ক্ষুধা মানচিত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ অংশ।

ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে - শ্রীলঙ্কা (৬৪)। তারপর একে একে রয়েছে নেপাল (৭৩), বাংলাদেশ (৭৫),  মায়ানমার (৭৮) এবং পাকিস্তান (৮৮)। ভারতের নিচে রয়েছে শুধুমাত্র আফগানিস্তান (৯৯)। ভুটানের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। আর ২০২০ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে, চিন সেই ১৭টি দেশের একটি যার জিআইএইচ স্কোর ৫ এরও কম। এই ১৭টি দেশকে আলাদা করে ব়্যাঙ্কিং না করে তাদের ১ থেকে ১৭তম স্থান অবধি একত্রিতভাবে রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল ক্ষুধার জন্য শিশুসম্পদ নষ্টের হার সবচেয়ে বেশি হল দক্ষিণ এশিয়াতেই এবং তারমধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভারতের। ভারতে ক্ষুধার কারণে ১৭.৩% শতাংশ শিশুসম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের পক্ষে একটাই বলার মতো বিষয় হল, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য রকমের হ্রাস পেয়েছে। তবে, তাই বলে এই দেশে শিশু মৃত্য়ুর সমস্যার অবসান হয়েছে এমনটা ভাবা ভুল হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে ভারত সম্পর্কিত প্রতিবেদনে।

২০২০ সালের জিএইচআই অনুসারে, কোনও দেশই এখন ক্ষুধার্ততার নিরিখে 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক' বিভাগে নেই। চাদ, পূর্ব টিমোর এবং মাদাগাস্কার - এই তিনটি দেশ রয়েছে 'উদ্বেগজনক' বিভাগে।