রবিবার ফের ২৪ ঘন্টায় সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির রেকর্ড হল ভারতে। গত ৭ দিনে এই নিয়ে ৫ দিন এই রেকর্ড হতে দেখা গেল। এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে নতুন ৬,৭৬৭ জন কোভিড-১৯ রোগীর সন্ধান  মিলেছে। এর ফলে ভারতের মোট করোনাভাইরাস মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩১,৮৬৮-তে। আর এই মহামারিজনিত কারণে ভারতে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩,৮৬৭-তে।

এটি গত এক সপ্তাহে এই নিয়ে পঞ্চমবার একদিনে সংক্রমণের রেকর্ড বৃদ্ধি ঘটল। গত ১৮ মে ভারতে রোগীর সংখ্যা একদিনে বেড়েছিল ৫,২৪২ জন। তারপর ২০ মে (৫,৬১১), ২২ মে (৬,০৮৮), ২৩ মে (৬,৬৫৪) প্রায় প্রতিদিনই আগের রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। শুধুমাত্র ১৯ মে (৪,৯৭০) এবং ২১ মে (৫,৬০৯) নতুন রেকর্ড হয়নি। অর্থাৎ গত ৭ দিনে ৩৪,০০০-এর বেশি করোনা রোগীর সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটেছে ভারতে, যা ভারতের মোট করোনা রোগীর সংখ্যার ২৫ শতাংশেরও বেশি।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কর্মকর্তাদের দাবি এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এই সময়ে পরীক্ষার সংখ্যাও অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত মার্চ মাসে যেখানে প্রতিদিন গড়ে মাত্র এক হাজারটি নমুনা পরীক্ষা করা হত।

তবে দুইমাসের বেশি সময় ধরে চলা লকডাউনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিকাশ যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি তা একরকম স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এই পরিসংখ্যানে। কিন্তু, অর্থনৈতিক ক্ষতি ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ভারতে লকডাউনে অনেক শিথিলতা আনা হয়েছে। সেইসঙ্গে অন্তর্দেশীয় বিমান চলাচল ও রেল পরিষেবা আংশিকভাবে চালু করে দেওয়া হচ্ছে। চলছে অগাস্টের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল চালু করার কথাবার্তাও। কিন্তু, গত সাতদিনে যেভাবে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে তাতে এই পরিমাণ শিথিলতায় গভীর উদ্বেগে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যুক্ত বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসকরা।