ভারতে আচমকাই বিপুল পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে বজ্রপাত। বিহারেই গত ১০ দিনে বজ্রপাতের ফলে ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মার্চ মাসের শেষ থেকে ধরলে বিহারে বজ্রাঘাতে মৃতের সংখ্যাটা প্রায় ২১৫। তারমধ্যে আছে কৃষক, খেত মজুর, এবং গবাদি পশুপালকদের মতো দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ। তবে শুধু বিহারেই নয়, প্রতিবেশী রাজ্য উত্তরপ্রদেশেও গত এপ্রিল মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ২০০-রও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন বজ্রাহত হয়ে মারা গিয়েছেন।

ভারতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষা চলে। এই সময়টায় বজ্রপাতের ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়, হয়েই থাকে। কিন্তু, এই বছর বজ্রপাতটা যেন মাত্রাতিরিক্ত হচ্ছে। এই বছর বর্ষার মরসুম সবে শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই বিহারে এই বছর বজ্রাঘাতে মৃতের সংখ্যা গত গত কয়েক বছরের মধ্যে রাজ্যে বর্ষায় মৃতের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত বছর বর্ষাকালে বিহারে বজ্রপাতে নিহত হয়েছিলেন মোট ১৭০ জন।

আচমকা এই বজ্রপাতের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ কী? আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং ভূ-বিজ্ঞানী বলছেন জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রাই এই আচমকা বজ্রপাতের পরিমাণ বৃদ্ধির মূল কারণ। বিহারের কৃষিবিদ আবদুস সাত্তার বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে বায়ুমণ্ডলে বড় মাপের অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে। তার জন্যই এত ঘন ঘন বিদ্য়ুৎ চমকাচ্ছে বাজ পড়ছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনে আরও চরম আবহাওয়া দেখা দেবে।

এই অবস্থায় বিহার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। সেখানে বজ্রপাতের  সম্ভাব্য পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ দরিদ্র কৃষকের কাছেই স্মার্টফোন  না থাকায় এই ব্যবস্থা খুব একটা কার্যকরি যে হবে না, তা সরকারি কর্তারাই বলছেন।