চিনে করোনা ভাইরাসে আতঙ্কগ্রস্ত ভারতীয়দের দেশে আনার উদ্য়োগ নিল মোদী সরকার। বিদেশমন্ত্রী এস জয় শঙ্কর জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ভারতীয় দূতাবাস। শীঘ্রই করোনা ভাইরাসে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউহান শহরে বিমান পাঠাবে ভারত। ফিরিয়ে আনা  হবে গৃহবন্দি ভারতীয়দের। যাদের  মধ্য়ে বেশিরভাগই ছাত্র। 

বিগত কিছুদিন  ধরেই চিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্য়ু হয়েছে ৮২ জনের। ক্রমশই আক্রান্তের সংখ্য়া বেড়েই চলেছে। যার জেরে চিন্তায় পড়েছেন চিনে বসবাসরত ভারতীয়দের পরিবার। পরিসংখ্য়ান বলছে, ভারত থেকে চিনে ডক্টরেট করতে যায় দেশের ছাত্রদের একটা বড় অংশ। ইউহান প্রদেশে করোনো ভাইরাসের আতঙ্কে বর্তমানে যারা গৃহবন্দি।  

সম্প্রতি এরকমই এক ছাত্র খবর সামনে এসেছে। বর্ধমানের ওই ছাত্রের নাম সাম্য় কুমার রায়। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে একন নিজেকে গৃহবন্দি করে রেখেছে ওই ছাত্র।  সন্তানের চিন্তায় রক্তচাপ বাড়ছে  সাম্য়ের পরিবারে। বর্ধমানের কালিবাজার এলাকার যুবক সাম্য কুমার রায়। দু বছরের পোস্ট ডক্টরেট করতে গিয়েছেন চিনে। সেখানে হোবেই প্রদেশের ওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডমিশন নিয়েছেন  সাম্য়। কিন্তু হঠাৎ যে এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্য়ে পড়তে হবে, বুঝতে পারেননি তিনিও। 

সাম্য়র ক্যারিয়ারগ্রাফ বলছে, ব্যাঙ্গালোর থেকে এমএসসি পাশ করার পর কানপুর আইআইটি থেকে পিএইচডি করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে দু বছরের চুক্তিতে চিনের ওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট ডক্টরেট করতে যান । প্রায় এক বছর পর তিনি দেড় মাসের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।  ছেলেকে পেয়ে খুশির শেষ ছিল না রায় পরিবারে। কিন্তু গত ২১ জানুয়ারি চিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার  পরই খবরটা জানতে পারেন সাম্যর অভিভাবকরা। করোনা ভাইরাস গ্রাস করেছে চিনের বিস্তীর্ণ এলাকা। এখন কার্যত গৃহবন্দি সাম্য়। যা চিন্তায় রেখেছে পরিবার-পরিজনকে। 

সাম্য রায়ের বাবা সুজিত রায় জানিয়েছেন, বেজিংয়ে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনও রেসপন্স পাওয়া যায়নি।  কাল জেনে ছিলাম এয়ার ইন্ডিয়ার একটি প্লেন পাঠানো হচ্ছে ওদের আনার জন্য। কিন্তু আমার কাছে কোনও খবর পাঠানো হয়নি।  কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাইনি। কালকে জেলাশাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি করবেন।