সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে AI ডিভাইস পাহাড়, মরুভূমির সঙ্গে সমতল এলাকার হাইওয়েতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই যন্ত্র একের পর এক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তারপরই অনুমোদন দেওয়া হয়। 

দেশের প্রতিরক্ষার জন্য বড় খবর। ভারতীয় সেনা বাহিনী কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা বা Artificial Intelengence (AI) ব্যবহার করার অনুমোদন পেয়েছে। মূলত দূর্ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি ব্যবহার করা হবে। ভারতীয় সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা এজাতীয় যন্ত্র তৈরি করছে। এই যন্ত্র চালকের ক্রিয়াকলাপ নিরীক্ষণ করবে। চালক যদি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পডডে তাহলে জোরে আওয়াজ করে তাকে জাগিয়ে দেবে। সেনা কর্মকর্তা কুলদীপ যাবদ একটি ডিভাইস তৈরি করেছে। ২০২১ সালে পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। যা এই মাসে দেওয়া হয়েছে। সেনা বাহিনীতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে বলেও আশা করা হচ্ছে। সেনা সূত্রে বলা হয়েছে AIএর মাধ্যমে তৈরি করা দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ডিভাইসটি যে কোনও যানবাহনে ব্যবহার করা যাবে। এটি জোড়া আর সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা খুবই সহজ। যে কোনও গাড়ির ড্যাসবোর্ডে লাগানো সেন্সর সহ ডিভাইসটি গাড়ির চালকের চোখ পর্যবেক্ষণ করবে। চালক যখনই ঘুমিয়ে পড়বে তখনই এই যন্ত্র চালককে সতেচন করে দেবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে পাহাড়, মরুভূমির সঙ্গে সমতল এলাকার হাইওয়েতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই যন্ত্র একের পর এক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ভারতের সেনা বাহিনীর সমস্ত যানবাহন এই সিস্টেমটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও এক সেনা কর্তা জানিয়েছেন।

পেটেন্ট পাওয়ার আগে AI প্রযুক্তিতে তৈরি এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ডিভাইসটি অন্ধ্রপ্রদেশ , তেলাঙ্গনার মত দুটি রাজ্যে পরিবহন কর্পোরেশনের বাসে বসানো হয়েছে। সেখানেই সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে ডিভাইসটি। একটি ট্রাকেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সেনা কর্তা।

কর্ণেল কুলদীব যাদব মণিপুরে একটা সামরিক ইউনিটের কমান্ডার ছিলেন। সেই সময়ই তিনি এজাতীয় ডিভাইসের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করেছিলেন। এজাতীয় ডিভাইস অনেক সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারে বলেও সেই সময়ই তিনি মনে করেছিলেন। কারণ পাহাড়ে চালকরা অনেক সময় দীর্ঘ ড্রাইভের সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তাতেই অনেক সময় ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

২০২১ সালে দেশে পথদুর্ঘটনায় ১ লক্ষ ৫৪ হাজার মানুষের মৃত্য়ু হয়েছিল। যার মধ্যে ৫৭ শতাংশ ছিল ট্রাক দুর্ঘটনা। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ট্রাকের চালক ক্লান্ত হয়ে ঘুমি পড়াতেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সামরিক যানবাহনের পাশাপাশি বেসামরিক যানবাহন মূলত ট্রাক ও বাসে এই ডিভাইস বসানো যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ডিভাইস অনেকেরই প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম।